ট্রাম্পের ‘গাজা শান্তি পর্ষদে’ যোগ দিতে সম্মত নেতানিয়াহু
গাজায় টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি শান্তি পর্ষদ গঠন করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুরুতে শান্তি পর্ষদ নিয়ে নাখোশ হলেও অবশেষে এতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
আজ বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যানের ভূমিকায় থাকবেন ট্রাম্প নিজেই। শুরুতে গাজার যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার বাস্তবায়নের দেখভাল করার জন্য একটি পর্ষদ গঠনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
তবে পরবর্তীতে ট্রাম্প প্রশাসন ওই পর্ষদের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা সামনে আনে। শুধু গাজা নয়, যেকোনো বৈশ্বিক সংঘাত নিরসনেই অবদান রাখবে ওই পর্ষদ। এমনটাই ভাবছেন ট্রাম্প। ইতোমধ্যে প্রায় ৬০টি দেশের কাছে আমন্ত্রণ পাঠিয়েছেন তিনি।
এর আগে শান্তি পর্ষদের নির্বাহী কমিটির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল নেতানিয়াহুর কার্যালয়। মূলত তুরস্কের নেতা এরদোয়ানকে আমন্ত্রণ জানানোয় চটে যান নেতানিয়াহু।
তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, 'ইসরায়েল সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়নি এবং এটি আমাদের নীতিবিরুদ্ধ।'
দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মৎরিচ পর্ষদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি ইসরায়েলকে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে একক আধিপত্য আদায়ের দাবি জানান।
ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে সম্মতি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো, ভিয়েতনাম, বেলারুশ, হাঙ্গেরি, কাজাখস্তান ও আর্জেন্টিনা।
যুক্তরাজ্য, রাশিয়াসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ আমন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
গাজা ছাড়িয়ে অন্যান্য সংঘাত নিয়েও শান্তি পর্ষদ কাজ করবে। ট্রাম্পের ইচ্ছে তেমনই। এই পর্ষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ১ বিলিয়ন ডলার এককালীন চাঁদা দেওয়ার শর্তও ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে, বিষয়টি অনেকটাই ঘোলাটে ও বিতর্কিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তি পর্ষদের কার্যক্রমে জাতিসংঘের কাজে বাধা আসতে পারে।
মঙ্গলবার ট্রাম্পকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, শান্তি পর্ষদ কি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপন করবে কী না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, 'করতে পারে'। তিনি মত দেন, জাতিসংঘ খুব একটা উপকারী না। এই সংস্থা সম্ভাবনাময় হলেও তাদের প্রতি যে প্রত্যাশা ছিল, তা তারা কখনো পূরণ করতে পারেনি।'
তবে শুধু সম্ভাবনার বিচারে জাতিসংঘের কার্যক্রম অব্যাহত থাকা উচিৎ বলে মত দেন ট্রাম্প।

