ছবি দেখে মালিককে চিনতে পারে কুকুর?
সারাদিন কাজ শেষে বাসা ফিরলেন। দরজা খুলতেই দেখলেন ওপাশে পোষা কুকুরটি দাঁড়িয়ে আছে। আপনাকে দেখে খুশিতে লেজ নাড়তে নাড়তে আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এরা কীভাবে জানে দরজা দিয়ে ঢোকা মানুষটি আপনি?
২০২০ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজিতে প্রকাশিত গবেষণা বলছে, কুকুর তাকানো, গন্ধ ও পূর্ব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মানুষ চিনতে পারে। এর মধ্যে মুখের অঙ্গভঙ্গি ও শরীরী অভিব্যক্তিও অন্তর্ভুক্ত আছে।
এখন প্রশ্ন হলো, কুকুর সামনে থাকা যে মানুষকে চিনতে পারে, ওই একই মানুষকে কি ছবি দেখেও চিনতে পারে? আর পারলে, কীভাবে?
কুকুরের চোখের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ
কুকুর ছবি দেখে মানুষ চিনতে পারে কিনা এ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে গবেষণা হচ্ছে।
২০১৩ সালে অ্যানিমেল কগনিশন জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় কুকুরের চোখের নড়াচড়া বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে কুকুরদের সামনে মানুষের ছবি (পরিচিত ও অপরিচিত) ও কুকুরের ছবি (পরিচিত ও অপরিচিত) দেখানো হয়েছিল।
ফলাফলে দেখা যায়, কুকুররা সাধারণত কুকুরের ছবির দিকে বেশি সময় তাকিয়ে থাকে, সে পরিচিত হোক বা না হোক।
তবে মানুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। কুকুররা অপরিচিতদের চেয়ে পরিচিত মানুষের মুখের দিকে বেশি সময় তাকিয়ে থাকে। আরও দেখা যায়, পরিচিত মুখের ক্ষেত্রে কুকুররা চোখের দিকে বেশি নজর দেয়।
মালিককে চিনতে কুকুরের সক্ষমতা পরীক্ষা
২০২০ সালে অ্যানিমেল কগনিশনে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা হয়, কুকুররা ভালো ও তুলনামূলক খারাপ ছবি দেখে তাদের মালিককে চিনতে পারে কিনা।
এই পরীক্ষাটি তাদের সামনে মূলত একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে ছুড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুটি ছবি দেখে তাদের মালিককে চিনতে হবে। তাহলে তাদের মালিকের কাছে ফেরত পাঠানো হবে।
গবেষণায় দেখা যায়, কুকুর অপরিচিত মানুষের ছবির তুলনায় মালিকের ছবির দিকেই এগিয়ে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ছবি ভালো না খারাপ, তা এতে তেমন কোনো প্রভাব ফেলেনি।
যদিও কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, কুকুর মালিকের মুখ চিনতে পারে। তবে ২০১৫ সালে পির জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বিষয়টি আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।
এই গবেষণায় ছয়টি কুকুরকে কোনো ধরনের ওষুধ বা বেঁধে রাখা ছাড়াই একটি এমআরআই মেশিনে শুয়ে থাকার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মেশিনে থাকা অবস্থায় তাদের সামনে বিভিন্ন বস্তুর ছবি, অন্য কুকুরের মুখ ও মানুষের মুখ দেখানো হয়।
ওই গবেষণায় কুকুরের মস্তিষ্কের একটি অংশ শনাক্ত করা হয়, যাকে বলা হয় ক্যানাইন টেম্পোরাল লোব। এই অংশটি কোনো বস্তুর ছবির তুলনায় মানুষের মুখের ছবিতে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। একই সঙ্গে দেখা যায়, কুকুর ও মানুষের মুখের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের এই অঞ্চলের প্রতিক্রিয়ায় বেশ মিল ছিল।
সব মিলিয়ে ফলাফল দেখায়, কুকুরের প্রাথমিক দৃষ্টিকেন্দ্রে (প্রাইমারি ভিজ্যুয়াল কর্টেক্স) কোনো নির্দিষ্ট মুখ আলাদা করে ধরা পড়েনি। তার মানে এটি কেবল দেখার বিষয় ছিল না। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রমাণ করে মুখ শনাক্ত করার ক্ষমতা কেবল প্রাইমেটদের (বানর ও মানুষ) মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
গবেষকরা কুকুর ও মানুষের সম্পর্ক নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতে আর কী আবিষ্কার হয়—কে জানে?