ক্যাঙ্গারু নিয়ে এসব মজার তথ্য জানেন কি
ক্যাঙ্গারু কে না চেনে। লাফিয়ে চলা এই প্রাণীটির কথা ভাবলেই, দেশটি দেশের নাম মনে আসে। আর সেই দেশটি হলো অস্ট্রেলিয়া। কারণ ক্যাঙ্গারু অস্টেলিয়াতে বসবাস করে।
আজ আমরা জানব পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর প্রাণী ক্যাঙ্গারু সম্পর্কে দারুণ সব তথ্য।
এক নজরে কিছু তথ্য
- বৈজ্ঞানিক নাম: ম্যাক্রোপাস
- পরিবার: ম্যাক্রোপোডিডি
- শ্রেণি: স্তন্যপায়ী প্রাণী
- বন্য পরিবেশে আয়ুষ্কাল: সর্বোচ্চ ২৩ বছর
- ওজন: প্রায় ৯০ কেজি
- উচ্চতা: ২ মিটারের বেশি
- সর্বোচ্চ গতি: ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার
- খাদ্যাভ্যাস: তৃণভোজী (প্রধানত ঘাস)
- বাসস্থান: অস্ট্রেলিয়ার মরুভূমি ও তৃণভূমি
ক্যাঙ্গারুর বড় পা
ক্যাঙ্গারু ম্যাক্রোপোডিডি প্রাণী পরিবারের সদস্য। ম্যাক্রোপোডিডি শব্দের আক্ষরিক অর্থই হলো ‘বড় পা’। ক্যাঙ্গারুর এই বড় পা বেশ শক্তিশালী। এজন্য তারা ঘণ্টায় ৫৬ কিলোমিটার বেগে দৌড়াতে পারে। শুধু কী তাই, এক লাফে ৯ মিটার পর্যন্ত পার হতে পারে!
তবে ক্যাঙ্গারুর সামনের পা ছোট। কিন্তু পেছনে আছে লম্বা ও শক্ত লেজ। ক্যাঙ্গারু লাফানোর সময় তার লেজ ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে। পৃথিবীর সব মারসুপিয়ালের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা ক্যাঙ্গারু ২ মিটারেরও বেশি উঁচু হয়ে দাঁড়াতে পারে।

দলবদ্ধ জীবন
মূলত অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলে ক্যাঙ্গারু পাওয়া যায়। তারা ছোট ছোট দলে বেধে বসবাস করে। ক্যাঙ্গারুর এই দলকে ‘ট্রুপ’ বা ‘হার্ড’ বলা হয়। একটি দলে সাধারণত ৫০টির বেশি ক্যাঙ্গারু থাকতে পারে।
তারা একে অন্যকে সাহায্য করে। বিপদ টের পেলে পা দিয়ে মাটিতে আঘাত করে অন্যদের সতর্ক করে দেয়। ক্যাঙ্গারু মোটেও দুর্বল নয়! তারা যখন কাউকে হামলা করে তখন জোরে ঘুষি ও লাথি মারে, এমনকি কামড়ও দিতে পারে।
জোয়ি
মা ক্যাঙ্গারুর পেটের সামনে একটি থলি বা পাউচ থাকে। এই থলির ভেতরে থাকে বাচ্চা ক্যাঙ্গারু, যাদের বলা হয় ‘জোয়ি’।
নবজাতক জোয়ির আকার মাত্র ২ দুই দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, একটি আঙুরের মতো ছোট! জন্মের পর জোয়ি নিজেই মায়ের ঘন লোম বেয়ে পাউচে পৌঁছে যায়। তখন সে এত ছোট থাকে যে, সে নিজে খেতে পারে না। তখন মা তার পেশির সাহায্যে দুধ বাচ্চার গলায় পৌঁছে দেন।
৪ মাস বয়সী জোয়ি অল্প সময়ের জন্য পাউচের বাইরে বের হতে শুরু করে। আর ১০ মাস বয়সে সে পুরোপুরি পাউচ ছাড়তে পারে।
কী খায় ক্যাঙ্গারু?
ক্যাঙ্গারু তৃণভোজী প্রাণী। তারা ঘাস, ছোট ছোট গাছপালা খেতে পছন্দ করে।
মানুষ ও বন্য কুকুর ডিঙ্গো ছাড়া তাদের প্রাকৃতিক শত্রু খুব বেশি নেই। তবে তাপদাহ, খরা, খাদ্য সংকট ও বাসস্থান কমে যাওয়া প্রকৃতির এই অসাধারণ প্রাণীটির জন্য কিছু বিপদ ডেকে এনেছে।