কথ্য ভাষায় অনীহা, দিনে ৩৩৮টি শব্দ কম বলছে মানুষ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, আমাদের প্রতিদিনের জীবনে কথ্য ভাষার ব্যবহার কমে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি-কানসাস সিটি বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএমকেসি) ও অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সামাজিকমাধ্যমসহ প্রযুক্তির কারণে এটা ঘটছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

বিবিসি সায়েন্স ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

মনোবিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ২০০৫ সাল থেকে গড়ে একজন মানুষ প্রতিদিন আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩৮টি শব্দ কম বলেছেন।

এর ফলে বছরে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শব্দের ব্যবহার কমেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ক্ষতি মনে করছেন গবেষকরা।

ইউএমকেসির ভাষাবিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ড. ভ্যালেরিয়া ফাইফার বলেন, আমাদের প্রতিদিনের আচরণের ছোট ছোট পরিবর্তন সময়ের সঙ্গে বড় প্রভাব ফেলে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের কথোপকথন কমে যাচ্ছে, তবে তাৎক্ষণিক এটা চোখে পড়ে না। কিন্তু এটি মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ধরন বদলে দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে সামগ্রিকভাবে কথ্য শব্দের ব্যবহার ২৮ শতাংশ কমেছে।

ফাইফার বলেন, কম কথা বলার মানে হলো অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ কম করা। মানুষ যদি কম কথা বলে, তাহরে সামাজিক আবেগ কমে যাবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে সম্পর্ক ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।

ফাইফার ও সহ-গবেষক অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী অধ্যাপক ম্যাথিয়াস মেহল ১৪ বছরের সংগৃহীত ২২টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বলে বিবিসি সায়েন্স ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়।

এই গবেষণাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রতিদিনকার জীবনের অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়। তাদের বয়স ছিল ১০ থেকে ৯৪ বছরের মধ্যে।

ফাইফার বলেন, প্রতিদিনের কথার পরিমাণে ছোট ছোট সামাজিক মিথস্ক্রিয়াও বড় ভূমিকা রাখে। যেমন দোকানদার বা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতা।

গবেষণার সময়কাল ২০০৫ থেকে ২০১৯ হওয়ায় গবেষকেরা মনে করেন, এই সময়ের মধ্যে টেক্সটিং, ইমেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের উত্থান ঘটেছে। ফলে কিছু কথোপকথন এখন ডিজিটাল মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়েছে।

তিনি বলেন, টাইপ করা কথোপকথন আর মুখে বলা কথার মধ্যে একই ধরনের সামাজিক উপকারিতা আছে কিনা তা জানা প্রয়োজন।

গবেষণায় বয়সভিত্তিক কিছু পার্থক্যও পাওয়া গেছে। সব বয়সী মানুষের মধ্যেই কথা বলার হার কমেছে, তবে ২৫ বছর বা তার কম বয়সীদের মধ্যে কমার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সম্ভবত প্রযুক্তি বেশি ব্যবহারের কারণে এমনটা হয়েছে বলে ধারণা করছেন গবেষকরা।

গবেষকরা এখনো পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেননি যে, ডিজিটাল যোগাযোগ ও ইমোজি এবং লিখিত বার্তার ওপর নির্ভরতা মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলছে।

ফাইফার বলেন, মানুষ দুই লাখ বছরেরও বেশি সময় ধরে কথ্য ভাষার ওপর নির্ভর করে এসেছে। এখন আমরা জানি না, ডিজিটাল যোগাযোগের দিকে ঝোঁক সামাজিক কোনো ক্ষতি তৈরি করছে কি না।

তবে কথ্য ও লিখিত যোগাযোগ কীভাবে একাকীত্ব, স্বাস্থ্য এবং মানসিক সুস্থতাকে প্রভাবিত করে তা আরও ভালোভাবে বোঝার প্রয়োজন আছে বলে জানান তিনি।