সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নিতে শুরুটা করবেন যেভাবে

স্টার অনলাইন ডেস্ক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কিছুদিন দূরে থাকার কথা অনেকেই ভাবেন। কখনো মনে হয় ফোনে খুব বেশি সময় চলে যাচ্ছে, কখনো আবার অন্যের জীবন দেখতে দেখতে নিজের জীবনকেই নিরানন্দ মনে হয়। তবে বছরের পর বছর ধরে তৈরি হওয়া অভ্যাস একদিনে বদলানো সহজ নয়। তাই বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেই সব অ্যাপ মুছে ফেলার প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট পরিবর্তন দিয়েও শুরু করা যায়।

সকালে ঘুম ভাঙার পর ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাসটি বদলান

অনেকের দিন শুরু হয় অ্যালার্ম বন্ধ করে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা টিকটক স্ক্রল করার মাধ্যমে। ফলে দিনের প্রথম কয়েক মিনিটই অন্যের ছবি, খবর বা মতামত দিয়ে ভরে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নিতে চাইলে দিনের শুরুটা ফোনের বদলে অন্য কিছু দিয়ে করার চেষ্টা করতে পারেন। এক কাপ চা, বারান্দায় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা দিনের কাজের তালিকা দেখা—যেকোনো কিছুই হতে পারে বিকল্প।

কোন অ্যাপটি সবচেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে, সেটি চিহ্নিত করুন

সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সমানভাবে ব্যবহার করেন না সবাই। কারও সময় চলে যায় ইনস্টাগ্রাম রিলসে, কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেসবুক স্ক্রল করেন, আবার কেউ টিকটকে আটকে থাকেন। তাই সবকিছুকে একসঙ্গে সমস্যা হিসেবে দেখার বদলে কোন অ্যাপটি সবচেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে, সেটি আগে খুঁজে বের করা কার্যকর হতে পারে।

ফাঁকা সময় পেলেই ফোন ধরার অভ্যাস খেয়াল করুন

বাসের অপেক্ষা, লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বা খাবার আসতে দেরি হওয়া—এ ধরনের ছোট ছোট বিরতিগুলোতে অনেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোন বের করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার কমাতে চাইলে এই মুহূর্তগুলোকে একটু সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। অনেক সময় বিরক্তি নয়, অভ্যাসই আমাদের ফোনের দিকে টেনে নেয়।

কয়েক দিনের জন্য অ্যাপের জায়গা বদলে দিন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলো সাধারণত ফোনের প্রথম স্ক্রিনেই থাকে। ফলে অজান্তেই সেগুলো খুলে ফেলা সহজ হয়। কয়েক দিনের জন্য অ্যাপগুলো অন্য ফোল্ডারে সরিয়ে রাখা বা ফোনের শেষ স্ক্রিনে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। ছোট এই পরিবর্তনও ব্যবহার কমাতে সাহায্য করতে পারে।

অনলাইনের বদলে অফলাইনে যোগাযোগের চেষ্টা করুন

অনেক সময় আমরা বন্ধুদের খবর জানি শুধু স্টোরি বা পোস্ট দেখে। কারও সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজনও বোধ করি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় কাটাতে চাইলে কাছের মানুষদের সরাসরি ফোন করা, দেখা করা বা ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।

বিরতির সময় কী করবেন, সেটিও আগে ঠিক করুন

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কমানোর পরিকল্পনা করলেই হয় না। সেই সময়টা কীভাবে কাটাবেন, সেটিও ভাবতে হয়। কারণ ফাঁকা জায়গা বেশিক্ষণ ফাঁকা থাকে না। বই পড়া, হাঁটা, রান্না, সিনেমা দেখা বা কোনো পুরোনো শখে ফিরে যাওয়া—বিকল্প না থাকলে আবারও ফোনের স্ক্রিনেই ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা কমে কি না, খেয়াল করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ সাধারণত জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোই তুলে ধরেন। ফলে অন্যের জীবনকে নিজের বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কয়েক দিনের বিরতির পর নিজের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটি লক্ষ করা যেতে পারে।

‘মিস করে ফেলছি’ অনুভূতিকে স্বাভাবিক মনে করুন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় কাটানো শুরু করলে শুরুতে মনে হতে পারে, অনেক কিছুই হয়তো চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে। বন্ধুদের আপডেট, ট্রেন্ড বা ভাইরাল আলোচনার বাইরে পড়ে যাওয়ার অনুভূতিও হতে পারে। তবে এই অস্বস্তি সাধারণত সাময়িক। সময়ের সঙ্গে অনেকেই বুঝতে পারেন, সব খবর সঙ্গে সঙ্গে জানা জরুরি নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিরতি নেওয়ার মানে প্রযুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। বরং নিজের সময়, মনোযোগ ও অভ্যাসের ওপর আবার কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা।