সবজির দাম কমলেও বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীতে সবজির দাম কমলেও বেড়েছে মাছ, মুরগি ও ডিমের।

গতকাল বৃহস্পতিবার ও আজ শুক্রবার রাজধানীর শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, ইব্রাহিমপুর, মিরপুর-১১, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে প্রায় সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে।

সবচেয়ে বেশি কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। এক সপ্তাহ আগে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি হলেও এখন তা কেজিপ্রতি ২০০-২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কিন্তু এরপরও বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। কারণ ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০-২০ টাকা ও সিংহভাগ মাছের দাম কেজিতে ২০-৩০ টাকা করে বেড়েছে।

আজ কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা কাইয়ুম হোসেন (৬৫) দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সবজির দাম কমলেও আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বস্তি আসেনি। কারণ ডিম, মাছ ও মুরগির দাম বেড়েছে।’

তিনি জানান, দুই কেজি বরবটি ও পটল কিনেছেন ১১০ টাকায়, যা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪০ টাকা কম। কিন্তু এক কেজি রুই মাছে ৩০ টাকা বেশি, এক ডজন ডিমে ১০ টাকা বেশি এবং পৌনে দুই কেজির একটি মুরগিতে গত সপ্তাহের তুলনায় ১৭ টাকা বেশি খরচ হয়েছে তার।

‘মোট বাজারে খরচ কমে নাই বরং বেড়েছে,’ বলেন তিনি।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আজ ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা। মাছের মধ্যে রুই ৩০০-৩৮০, কাতলা ৩০০-৩৬০, তেলাপিয়া ১৮০-২৫০, কই ২০০-২৫০ ও পাঙ্গাশ ১৬০-২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এর সবই খামারে চাষ হওয়া মাছ।

নদী ও বিলের মাছের দাম অনেক বেশি।

কাজীপাড়া বাজার থেকে ৩৫০ টাকা কেজিতে রুই মাছ কেনা রেদওয়ান হোসেন বলেন, ‘বাজারে চাষের মাছে পরিপূর্ণ। কিন্তু নদী ও বিলের মাছের সাপ্লাই কম এবং দাম অতিরিক্ত বেশি। নদী-বিলের মাছের কেজি হাজারের কমে পাওয়াই যায় না। চিংড়ি মাছও এক হাজার টাকা কেজি চাইছে।’  

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের পক্ষে দেশি মাছ খাওয়া সম্ভবই না।’

কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির বলেন, ‘সব রকমের মাছের দাম বেড়েছে। জলাশয়ে পানি বাড়ার কারণে চাষের মাছের আমদানি কমে গেছে। নদী-বিলের মাছ তো আগে থেকেই কম।’

এদিকে কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী নূর ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘দুই সপ্তাহ চড়া দাম থাকার পর এই সপ্তাহে সবজির দাম কমেছে। গত সপ্তাহেও বেশিরভাগ সবজি ৮০-১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। এই সপ্তাহে তা কমে কেজিপ্রতি ৫০-১০০ টাকায় নেমে এসেছে।’

আরেক সবজি ব্যবসায়ী মো সেলিম বলেন, ‘সাপ্লাইয়ের কম-বেশির ওপর সবজির দাম ওঠা-নামা করে। এই সপ্তাহে সাপ্লাই বেড়েছে। সবজির মধ্যে সবচেয়ে সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, মাত্র ২৫-৩০ টাকা কেজি দরে।’

পেঁয়াজের দামও কেজিতে ৫ টাকা কমেছে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর বিভিন্ন সবজির বাজার ঘুরে দেখা যায়, ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০-৮০ টাকা, পটল ৫০-৮০ টাকা, বরবটি ৬০-১০০ টাকা, মুলা ৪০-৭০ টাকা, বেগুন ৫০-১০০ টাকা, করলা ৭০-১০০ টাকা, কাঁকরোল ৬০-১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০-৮০ টাকা ও লাউ ৫০-৮০ টাকা পিস।