লাল মাংসের নতুন মুরগি: ৪৫ দিনেই ওজন হবে ১ কেজি

বাসস
বাসস

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকেরা মাংসের জন্য মুরগির নতুন একটি জাত (উপজাত) উদ্ভাবন করেছেন। ১৫ বছরের দীর্ঘ গবেষণায় উদ্ভাবিত এই মুরগি দ্রুত বড় হয়। মাত্র ৪৫ দিনেই এর ওজন হবে প্রায় এক কেজি (৯৫০ গ্রাম)। এই মুরগির মাংস অনেকটা দেশি মুরগির মতোই শক্ত। এর মাংসের রং লালচে।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) অর্থায়নে এই গবেষণা পরিচালিত হয়। গতকাল বুধবার গবেষণা দলের প্রধান ও বাকৃবির পোলট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান মোল্যা নতুন জাতের এই মুরগির তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ভোক্তার চাহিদা ও খামারিদের লাভের কথা ভেবেই দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বিভিন্ন ‘প্যারেন্ট লাইন’ সংরক্ষণ, নির্বাচন ও সংকরায়ণের মাধ্যমে এই জাত তৈরি করা হয়েছে।

অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, ‘সাধারণত প্রচলিত সোনালি মুরগির এক দিন বয়সী বাচ্চার ওজন যেখানে ২৬ থেকে ২৮ গ্রাম হয়, সেখানে আমাদের নতুন জাতের বাচ্চার ওজন ৩৮ গ্রাম পাওয়া গেছে। এতে বাজারজাতকরণের সময় প্রায় ৫০ গ্রাম অতিরিক্ত ওজন পাওয়া যায়, যা খামারিদের বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করবে।’ তিনি জানান, বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য এর সমজাতীয়তা (হোমোজাইগোসিটি) ৮৯ থেকে ৯৩ দশমিক ১১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে এই মুরগি হস্তান্তর করা হয়েছে। গবেষণা দল সরাসরি গ্রামে গ্রামে গিয়ে ১৫ থেকে ২৫ জনের নারী খামারিদের দল তৈরি করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

মাঠপর্যায়ের ফলাফলে দেখা গেছে, যেসব খামারিতে মুরগির বাচ্চার পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা এবং সঠিক সময়ে টিকা দেওয়া হয়েছে, তাদের খামারে মুরগির বৃদ্ধি অনেক ভালো হয়েছে। এ ছাড়া মৃত্যুহারও কমেছে। অনেক খামারি বাজারের চাহিদা বিবেচনা করে নির্ধারিত ৫০ দিনের পরিবর্তে ১০-১২ সপ্তাহ পর্যন্ত এই মুরগি পালন করছেন এবং প্রতি কেজি ৭০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে অধ্যাপক মো. বজলুর রহমান মোল্যা জানান, ঢাকার একটি উন্নত গবেষণাগারে এই মুরগির মাংস পরীক্ষা করে এতে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যায়নি।

নতুন এই জাত দেশি মুরগির নামে বাজারে চালিয়ে দিয়ে ক্রেতা প্রতারিত হওয়ার সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশি মুরগির নাম ভাঙানো নয়, বরং উন্নত স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও শতভাগ নিরাপদ মাংসের নিশ্চয়তা দিয়ে এটিকে একটি স্বতন্ত্র লালচে মাংসের ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

গবেষণার এই সাফল্য সম্পর্কে বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, শুধু গবেষণাগারে জাত উদ্ভাবন করলেই হবে না, বরং এর সুফল খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ অনুষদের বন্ধ থাকা বিক্রয়কেন্দ্রটি দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে গবেষণায় উৎপাদিত দুধ, মাংস ও পোলট্রিজাত পণ্য সরাসরি এই বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে মানুষের কাছে সুলভ মূল্যে পৌঁছে দিতে হবে।

গবেষণাটির চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা। পরে নতুন উদ্ভাবিত এই মুরগির মাংস দিয়ে প্রস্তুত করা বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করা হয়।