আধার কার্ডে ছবি ডেভিড ইমনের, নাম ‘আজহার খান’

 এফ এম মিজানুর রহমান
এফ এম মিজানুর রহমান

যশোর থেকে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের মোবাইল ফোনে ভারতের ‘আধার কার্ডের’ একটি ছবি পাওয়া গেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ ওই আধার কার্ডের ছবি ইমনকে পাঠিয়েছিল।

তদন্তকারীরা জানান, ইমনের পরিকল্পনা ছিল যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পার হওয়া। সীমান্ত পার হওয়ার পর তাকে আসল আধার কার্ড দেওয়ার কথা ছিল।

আধার কার্ডের ছবিতে দেখা যায়, ডেভিড ইমনের নাম ‘আজহার খান’ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ইমনের মোবাইল ফোনে আধার কার্ডের একটি ছবি পাঠায় বড় সাজ্জাদ। আমরা আসল কার্ডটি উদ্ধার করতে পারিনি। তবে তার মোবাইল ফোনে ছবি পেয়েছি।'

'পরিকল্পনা ছিল ইমন ভারতে ঢোকার পর তাকে আধার কার্ড দেওয়া হবে। তবে আধার কার্ডটি আসল নাকি ভুয়া—তা আমরা নিশ্চিত নই,' বলেন তিনি।

পুলিশ জানায়, অপরাধ চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ডেভিড ইমন বিদেশি সিম কার্ড এবং এনক্রিপ্টেড মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতেন।

বুধবার ভোরে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টাকালে ৩ সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন থানায় তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

অস্ত্র ও হত্যাসহ ৩ মামলায় ইমনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে ইমনের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।

শুনানি শেষে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সায়মা আফরিন হিমা ডেভিড ইমনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকায় সেই মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, গত ১৩ জুন রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করার ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ।

এসপি বলেন, 'তদন্তের সময় আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করি। গত ২২ জুলাই ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে এই হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি মো. ইলিয়াস ওরফে "ধামা ইলিয়াসকে" আমরা গ্রেপ্তার করি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে অপরাধ চক্রটি সম্পর্কে এবং ইমনের অবস্থান নিয়ে আমরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাই।'

পুলিশ জানায়, ইমনকে গ্রেপ্তারের পর তাকে নিয়ে ফটিকছড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় তৈরি এলজি এবং আরও কিছু দেশীয় তৈরি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, 'ইমনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো রাজনৈতিক "গডফাদারের" সম্পৃক্ততার প্রমাণ এখন পর্যন্ত পুলিশ পায়নি।'

তিনি বলেন, গত ৫ আগস্টের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাময়িক শিথিলতার সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের এক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ইমন সীমান্ত পার হওয়ার সময় বড় সাজ্জাদ ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।'

'বড় সাজ্জাদের নির্দেশেই ডেভিড ইমন ভারতে যাচ্ছিলেন। বড় সাজ্জাদ কলকাতায় ইমনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন,' বলেন তিনি।