ইতালির কথা বলে জাল ভিসায় মালয়েশিয়া, মানবপাচার চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

নিজস্ব সংবাদদাতা, নরসিংদী

নরসিংদী সদর উপজেলার এক বাসিন্দাকে ইতালির কথা বলে জাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর অভিযোগে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

মামলার বাদী আব্দুর রউফের (৩৩) অভিযোগ, ইতালি পাঠানোর কথা বলে আসামিরা তার কাছ থেকে মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নেন। কিন্তু, তাকে ইতালি না পাঠিয়ে জাল ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।

পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) আবুল খায়ের বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর থানার তিতারকুল এলাকা থেকে সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার টাউয়াদী এলাকা থেকে শিমুল চন্দ্র দাসকে (৩৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

মামলার এজাহার ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রউফ ও শিমুল পূর্বপরিচিত। শিমুল তার আত্মীয় সুবোধের মাধ্যমে রউফকে ইতালি পাঠানোর প্রস্তাব দেন। ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর সুবোধের বাড়িতে এ বিষয়ে সাড়ে ২১ লাখ টাকার একটি চুক্তি হয় এবং নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে করা ওই চুক্তিতে ৪৫ দিনের মধ্যে রউফকে ইতালি পাঠাতে না পারলে টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ৪ জুন রউফের পাসপোর্টে মালয়েশিয়া ও ফ্রান্সের জাল ভিসা লাগিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। মালয়েশিয়ায় বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ভিসাগুলো জাল বলে শনাক্ত করে এবং ৮ জুন রউফকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

এজাহার অনুযায়ী, দেশে ফেরার পর বিষয়টি আসামিদের জানালে তারা পুনরায় রউফকে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে আরও ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়ে লিখিত নেন এবং রউফ বিভিন্ন সময়ে তাদের টাকা দেন।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর ৩ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে আরও ৬ লাখ টাকাসহ সবমিলিয়ে আসামিদের ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতালি পাঠাতে না পারায় রউফ টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত চাইলে আসামিরা পাসপোর্ট ফেরত দিলেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে রউফের আবেদনের পর আদালতের নির্দেশে গত ৩ অক্টোবর নরসিংদী সদর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা হয়।

মামলাটিতে ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

পিবিআই পরিদর্শক আবুল খায়ের বলেন, ‘মামলাটি পিবিআইয়ের শিডিউলভুক্ত হওয়ায় ৫ অক্টোবর নরসিংদী জেলা পিবিআই স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত দুজন আজ আদালতে তাদের মানবপাচার কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’