অন্য এলাকার কেউ যেন ভোট না দিতে পারে, সতর্ক থাকবেন: তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের দিন সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে অন্য এলাকা থেকে কেউ এসে অন্যের নামে ভোট দিতে না পারে। ভোটের আগের দিন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রত্যেক ভোটারকে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে নজর রাখবেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের চরজানা বাইপাস এলাকায় এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ঠিক ব্যক্তি ভোট দিচ্ছেন কি না, নাকি অন্য এলাকা থেকে কেউ এসে অন্যের নামে ভোট দিচ্ছেন—এটা আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। ২০০৮ সালের মতো নির্বাচনের ফল যেন কারসাজি করা না হয়।
তিনি বলেন, ভোটারদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রেই ভোট দিতে হবে, তবে সেখানে যে ব্যক্তি ভোট দিচ্ছেন তিনি সত্যিই ওই কেন্দ্রের নিবন্ধিত ভোটার কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এখনো কিছু গোষ্ঠী নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার উপায় খুঁজছে। তারা বিভিন্ন লোক পাঠাচ্ছে, বিশেষ করে নারীদের কাছে এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং নানাভাবে বিভ্রান্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচন শুরুর আগেই এমন অনৈতিক কাজ করতে পারে, সুযোগ পেলে তারা দেশও বিক্রি করে দিতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারের শাসনের সময় নারীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও সেই লাইনগুলো ভোটকেন্দ্রের দিকে এগোত না। আধা ঘণ্টা যায়, এক ঘণ্টা যায়, দেড় ঘণ্টা যায়, কিন্তু লাইন একই জায়গায় থাকে। দূর থেকে দেখতে ভালো লাগে—এত বড় লাইন, এত মানুষ ভোট দিচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হলে ভোটারদের সঠিকভাবে লাইনে দাঁড়াতে হবে।
'শুধু ভোট দিয়ে চলে যাওয়াই যথেষ্ট নয়। কী করতে হবে? বুঝে আসতে হবে, যাতে ভোট অন্য কোথাও না যায়। খালি বাক্স দেখিয়ে পরে ভরে দেওয়া—এটা হতে দেওয়া যাবে না', যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে আমরা ব্যালট বাক্সের জাদু দেখেছি, যা ফলাফল বদলে দিয়েছিল। এবার যেন তা আর না ঘটে, সে জন্য আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সঠিক প্রতীকে সঠিক প্রার্থী নির্বাচিত হলে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
তিনি বলেন, ১২ তারিখ শুধু একটি নির্বাচনের দিন নয়, এই দিনটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের দিনে পরিণত হতে হবে। সে কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে এই নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ৫ তারিখে যেমন সব রাজনৈতিক মতের মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, তেমনি ১২ তারিখে সব যোগ্য ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে আসতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর যে নতুন পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা যদি আমরা জীবিত রাখতে না পারি, অর্থাৎ ১২ তারিখে ভোট দিয়ে যদি শক্ত ভিত্তির ওপর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমরা যে গণতন্ত্র গড়তে চাই, যে গণতন্ত্র সুশাসন নিশ্চিত করবে, মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এবং মানুষের ভাগ্য বদলাবে—তা আবারও বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি বলেন, আমরা যদি বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে না পারি, তাহলে এই দেশের মানুষই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে টাঙ্গাইলের শাড়ি বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য ও ব্যবসা বাড়াতে যমুনা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে, টাঙ্গাইলের আনারস রপ্তানি করা হবে এবং কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত করা হবে।