চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর এক কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন উভয়পক্ষের আরও ছয়জন।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার কামিল মাদ্রাসার গেটের সামনে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হাফিজুর রহমান উপজেলার বাঁকা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মফিজুর রহমানের ছোট ভাই।

এসপি মনিরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে পথে তিনি মারা যান। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় জামায়াত নেতা মফিজুর রহমান ও তার ভাই হাফিজুরসহ কয়েকজন কর্মী হাসাদহ বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে কামিল মাদ্রাসার সামনে মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। মেহেদী হাসাদহ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান ডেইলি স্টারকে বলেন, এ ঘটনার জন্য জামায়াত দায়ী। নির্বাচনের পর থেকে জামায়াত আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে অহেতুক মারামারি শুরু করে। তারা আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত অবস্থায় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। সেই ঘটনার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. রুহুল আমিন ডেইলি স্টারকে বলেন, এটা সংঘর্ষ নয়, হামলা। গতকাল সুটিয়া গ্রামের এক ছেলে ইফতার কিনতে হাসাদাহ বাজারে যায়। সেখানে বিএনপির গুন্ডারা তাকে মারধর করে। পরে আমাদের লোকজন বিষয়টি সমাধান করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের একজন কর্মী মারা গেছেন। এছাড়া তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ ডেইলি স্টারকে বলেন, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মেহেদী হাসান উপজেলার সুটিয়া গ্রামে গিয়ে হামলার শিকার হন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। ওই ঘটনার জেরে শনিবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।  

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল ডেইলি স্টারকে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। রাতে পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অতিরিক্ত ফোর্স চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আমরা আবেদন করেছি।