এক খামারে ৮ হাজার মুরগির মৃত্যু: ৫০ লাখ টাকার ঋণে দিশেহারা বাগেরহাটের খামারি সোহাগ
বাগেরহাটের চপাতলা গ্রামের সোহাগ শেখ ২০ বছর ধরে গড়ে তুলেছেন ‘সোহাগ এগ্রো ফার্ম’। এটাই তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। কিন্তু সেই খামারে গত ডিসেম্বর থেকে অজ্ঞাত রোগে প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা যাওয়ায় ৫০ লাখ টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে এখন দিশেহারা এই খামারি।
সোহাগ শেখ জানান, গত ডিসেম্বর থেকে তার খামারের ‘হোয়াইট লেগহর্ন’ জাতের লেয়ার মুরগিগুলো মারা যেতে শুরু করে। বার্ড ফ্লু সন্দেহে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৮ হাজার মুরগি মারা গেছে। বর্তমানে খামারে যে ৩ হাজার মুরগি টিকে আছে, সেগুলোর মধ্যেও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।
বর্তমানে খামারের কর্মীদের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে ডিম পাড়ার অপেক্ষায় থাকা মুরগিগুলোর নিথর দেহ বস্তায় ভরে পাশের নদীতে ফেলার কাজে।
নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে সোহাগ বলেন, ‘এই পাখিগুলোকে নিজ হাতে বস্তায় ভরে ফেলে দেওয়া যে কতটা কষ্টের, তা বোঝানো সম্ভব না। অনেক মুরগি ডিম দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে মারা যাচ্ছে।’
সোহাগের এই খামার গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৬ সালে মাত্র এক হাজার মুরগি নিয়ে। দীর্ঘ দুই দশকে তার পরিশ্রমে খামারটি বড় হয়েছিল, কর্মসংস্থান হয়েছিল এক ডজন মানুষের। ব্যবসার প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ও মহাজনদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। এখন আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাওনাদারদের চাপে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
সোহাগ বলেন, ‘পাওনাদাররা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে, কেউ কেউ অতিরিক্ত টাকাও দাবি করছে। গত দুই মাস ধরে কর্মচারীদের বেতন দিতে পারছি না। ঋণের বোঝা আর লোকসানের চাপে আমার আর কোনো পথ খোলা নেই।’
ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা বা স্বল্প সুদে ঋণের আকুতিও জানিয়েছেন এই খামারি। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রীয় সহায়তা না পেলে এই অর্ধকোটি টাকার লোকসান কাটিয়ে ওঠা তার পক্ষে অসম্ভব।
বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পলাশ কুমার দাস জানান, তাদের একটি দল খামারটি পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেছি। ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তবে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।