মধ্যপ্রাচ্য সংকট: সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রী-আঙ্কটাড মহাসচিবের
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আরও বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তারা এই আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদের নির্বাচনে প্রচারণার অংশ হিসেবে গত ১৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সাক্ষাতে খলিলুর রহমান ও গ্রিনস্প্যান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি এশিয়ার লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দরিদ্রতম দেশগুলো এর ফলে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের বছরের পর বছরের অর্জিত অগ্রগতি এখন উল্টো দিকে হাঁটছে।
তারা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে উত্তেজনা আর না বাড়িয়ে জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান জানান।
কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের একজন প্রার্থী। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদের প্রার্থী।
সাক্ষাতে তারা নিজ নিজ প্রার্থিতার বিষয়েও আলোচনা করেন। এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।