‘আজ আমার খুশির দিন’
‘আর ১০ দিন…৯ দিন…৮ দিন…আর মাত্র এক সপ্তাহ!’—এভাবেই প্রতিদিন গুনে গুনে অপেক্ষা করছিল ১২ বছর বয়সী রিফাত। কবে আসবে সেই কাঙ্ক্ষিত ঈদের দিন!
অবশেষে রিফাতের অপেক্ষার পালা শেষ। মুখে হাসি, চোখে আনন্দ নিয়ে আজ শনিবার ঈদের দিন ঘুরতে বেরিয়েছে সে। নতুন জামা, প্যান্ট আর জুতা পরে সে যেন নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করছে।
মিরপুর-১ শাহ আলি মাজারের সামনে দেখা হয় রিফাত ও তার পরিবারের সঙ্গে। এক গাল হাসি নিয়ে রিফাত বলল, ‘আজ আমার খুশির দিন।’
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রিফাতরা চার ভাইবোন। থাকে পীরেরবাগ এলাকায়। ঈদের দিন বাবা-মা আর ভাইবোনদের সঙ্গে মাজার এলাকায় ঘুরতে এসেছে সে।
চোখে-মুখে তার আনন্দের ঝলক। লাজুক হাসি দিয়ে বলল, ‘আজ নতুন জামা পরছি, নতুন জুতা পরছি… খুব ভালো লাগতেছে।’
পুরো দিন খাওয়া-দাওয়াও ভালো হয়েছে তার। সকালে সেমাই, দুপুরে ছিল পোলাও-মুরগি।
সাধারণত ঈদের মতো বিশেষ দিন ছাড়া এমন খাবার তাদের কপালে খুব একটা জোটে না।
‘আমরা তো সব সময় মুরগি পোলাও খাইতে পারি না… আজ খাইছি, তাই মনটা খুব ভালো,’ বলল রিফাত।
রিফাতের বাবা রিপন হাওলাদার ফার্নিচার দোকানের কর্মচারী। পীরেরবাগে একটি ছোট্ট ঘরে চার সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে তার টানাটানির সংসার। আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে বাসা ভাড়া দিয়ে যা থাকে, তা দিয়ে টেনেটুনে সংসার চালানোই যেখানে দায়, সেখানে সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়া দুঃসাধ্য।
রিফাতের নতুন পোশাক তার বাবার কিনে দেওয়া নয়।
রিপন হাওলাদার বলেন, ‘আত্মীয়-স্বজন আর প্রতিবেশীরা একেকজন একেকটা দিয়েছেন। কেউ গেঞ্জি, কেউ প্যান্ট, আবার কেউ জুতো কিনে দিয়েছেন।’
ঈদের চার দিন আগে নতুন কাপড়গুলো পেয়েছিল রিফাত। তারপর থেকে প্রতিদিনই সেগুলো বের করে দেখেছে, হাত বুলিয়েছে। ঈদের দিন গায়ে দেবে—এই আনন্দই ছিল তার বড় পাওয়া।
বাবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে রিফাতের কোনো অভিযোগ নেই। কৃতজ্ঞতা আর অদ্ভুত এক তৃপ্তি নিয়ে সে বলল, ‘বাবা কষ্ট করে… সব দিতে পারে না, তাতে কি হইছে? আত্মীয়-স্বজন তো দিয়েছে… আমি খুব খুশি।’
তার এই খুশি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সালামি। রিফাত জানায়, সকালে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ১০, ২০, ৫০ টাকা করে প্রায় ২০০ টাকা সালামি পেয়েছে। তবে সেই টাকা নিজের কাছে রাখেনি রিফাত। মায়ের হাতে তুলে দিয়েছে।
‘আম্মুকে বলছি একটা মুরগি কিনে ছোট ছোট করে কেটে ভেজে দিতে… আমরা ভাইবোন মিলে খাব।’