ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ঢল

সোহরাব হোসেন, পটুয়াখালী

রমজান মাসজুড়ে পর্যটকশূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ অবকাশ যাপনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নেমেছে সাগরকন্যায়। 

গত শনিবার সারা দেশে ঈদ উদযাপনের পর রোববার ও সোমবার কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিদিন বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে ভিড়ও বাড়তে থাকে।

ছবি: সোহরাব হোসেন/ স্টার

সৈকতের পাশাপাশি কুয়াকাটার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান—শুঁটকিপল্লি, গঙ্গামতির সৈকত, রাখাইন পল্লি, ইকোপার্ক, ইলিশ পার্ক, লেবুর বন ও ঝাউবাগানসহ সবখানেই এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। 

সমুদ্রের নোনা জলে গোসল, সৈকতে ঘোড়ায় চড়া কিংবা ছাতার নিচে বসে ঢেউয়ের গর্জন উপভোগ—সব মিলিয়ে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

খুলনা থেকে সপরিবারে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা আবরার হোসেন বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে এখানে আসা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা। সকালে এসে দেখি পুরো সৈকত মানুষে ভরে গেছে, যা পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।’

ঢাকা থেকে এসেছেন ডা. নাবিল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় বাড়িতে এসে পরিবারের সঙ্গে সৈকতে সময় কাটানো আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের। ঈদ শেসে এখানে এসে গোসল ও ছবি তুলে খুব ভালো সময় কাটছে।’

পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতিতে হাসি ফুটেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে। সৈকতের ঝিনুক ব্যবসায়ী মো. রাসেল রুম্মান জানান, রমজান মাসে বেচাকেনা প্রায় বন্ধ থাকলেও ঈদের দিন থেকে পর্যটক বাড়ায় তারা এখন দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আবাসিক হোটেলগুলোতেও লেগেছে ছুটির দোলা। ‘সাগর নীড়’ হোটেলের ব্যবস্থাপক জয়নুল আবেদীন জুয়েল জানান, ঈদ উপলক্ষে তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ কক্ষ আগেই বুকিং ছিল। গতকাল ও আজ সবগুলো রুমই বুকিং হয়েছে।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, ‘অনেকদিন পর কুয়াকাটায় এমন পর্যটকের ভিড় দেখা যাচ্ছে। পর্যটননির্ভর বিভিন্ন পেশার মানুষ এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং তাদের আয়ও বাড়ছে।’

এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। কুয়াকাটা অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ও সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।