২৫ মার্চ স্মরণে প্রাচ্যনাটের ‘লালযাত্রা’
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত, বাংলাদেশের জনস্মৃতিতে ‘কালরাত্রি’ হিসেবে চিহ্নিত এক রক্তাক্ত অধ্যায়। এ রাতেই পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ‘অপারেশন সার্চলাইটের’ মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর চালায় নির্মম হত্যাযজ্ঞ, যা দেশের ইতিহাসে কালরাত হিসেবে বিবেচিত।
এই ভয়াল রাতের স্মরণে পথনাটক ‘লালযাত্রা’ প্রদর্শনী করে প্রাচ্যনাট। ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে আয়োজিত হয় এ প্রদর্শনী।
নাট্যকর্মী ও অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক শশাঙ্ক কুমার সাহা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ২৫ মার্চের কালরাত্রিকে স্মরণ করতেই প্রাচ্যনাট ২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর ‘লালযাত্রা’ মঞ্চস্থ করে আসছে।
একাত্তরের সেই রাতে অন্ধকার নামার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার রাজপথে নেমে আসে ট্যাঙ্কের গর্জন। চারদিকে শুরু হয় নির্বিচার গুলিবর্ষণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এবং পুরান ঢাকার হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলো পরিণত হয় বধ্যভূমিতে—যেখানে বহু শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রাণ হারান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ঐতিহাসিক গবেষণা অনুযায়ী, কেবল ওই রাতেই কয়েক হাজার নিরস্ত্র মানুষ নিহত হন। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় অসংখ্য ঘরবাড়ি, ধ্বংস করে দেওয়া হয় জনপদ। এই পৈশাচিকতা বিশ্ববিবেককে স্তম্ভিত করে দেয়।
দীর্ঘ সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য। ট্যাঙ্ক, অটোমেটিক রাইফেল, রকেট লঞ্চার ও ভারী মর্টারে সজ্জিত হয়ে সেনারা তিন দিক থেকে ক্যাম্পাস ঘিরে ফেলে। তৎকালীন ইকবাল হল (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল)-এ বিশেষভাবে হামলা চালানো হয়, কারণ সেখান থেকেই ‘স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছিল।
২৫ মার্চের এই হত্যাযজ্ঞকেই ১৯৭১ সালের গণহত্যার সূচনা হিসেবে ধরা হয়, যা পরবর্তীতে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে।
অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।