ডেইলি স্টার-প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলায় সংবাদমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ শত্রুরাও জড়িত: ইফতেখারুজ্জামান
দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার উসকানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু ‘সুপরিচিত সাংবাদিক’ জড়িত ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
আজ শুক্রবার রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে এমআরডিআই আয়োজিত ‘বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্স ২০২৬’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলার পেছনে বাইরের শক্তির পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের অভ্যন্তরীণ শত্রুরাও কাজ করেছে। দালিলিক প্রমাণ আছে যে এই প্ররোচনাকারীদের মধ্যে সুপরিচিত সংবাদকর্মীরাও ছিলেন এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র থেকে এই ঘটনায় উল্লাস প্রকাশ করা হয়েছে।
হামলার সময় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীরবতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর উদাসীনতার সমালোচনা করেন তিনি।
সারা বিশ্বেই সাংবাদিকতা ‘সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশাগুলোর একটি’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। জানান, গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে ৫০০ জন এবং বাংলাদেশে ২৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান বাংলাদেশে অনুসন্ধানমূলক সাংবাদিকতার শক্তির কথা তুলে ধরেন এবং উল্লেখ করেন, ৬০টি ফেলোশিপ স্লটের বিপরীতে ১৮৮টি পিচ (প্রতিবেদনের প্রস্তাব) জমা পড়েছে।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন আমরা সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে বেশি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি না?
বস্তুনিষ্ঠ এবং ‘বুলেটপ্রুফ’ রিপোর্টিং নিশ্চিত করতে তিনি নিউজরুমের স্ব-নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, এখন থেকে এমআরডিআই প্রতি দুই বছর অন্তর এই জাতীয় সম্মেলন আয়োজন করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের (জিআইজেএন) নির্বাহী পরিচালক এমিলিয়া দিয়াজ-স্ট্রাক (ভার্চ্যুয়ালি) এবং সুইডিশ দূতাবাসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৫৫০ জন সাংবাদিক এই দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।