দুর্নীতির কার্যকর-দৃশ্যমান প্রতিরোধ ছাড়া সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব না: টিআইবি

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

দুর্নীতির কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিরোধ ছাড়া সরকারের কোনো অঙ্গীকার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে ‘সরকারের সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রাধান্য: টিআইবির সুপারিশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সুশাসিত ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি করা হয়েছে, তার বাস্তবায়নের জন্য অবিলম্বে বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহার এবং জুলাই সনদের ওপর ভিত্তি করে একটি সমন্বিত কৌশল ও পথরেখা প্রণয়ন করতে হবে। একইসঙ্গে বাস্তবায়নযোগ্য সব কর্মপরিকল্পনার মূলধারায় সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী উপাদান সক্রিয়ভাবে ও অবশ্য পালনীয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে দুদক সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশমালার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন বিশেষত, দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ এর বিদ্যমান ঘাটতিগুলো দূর করে কমিশনের প্রকৃত স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার পথ সুগম করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। পাশাপাশি দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অবস্থান ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে সরকারের বিশাল সুযোগ ও সক্ষমতার পাশাপাশি বহুমুখী প্রতিকূলতা ও ঝুঁকির সূত্র, স্বরূপ ও প্রক্রিয়া চিহ্নিত করে, তা মোকাবিলার কৌশল গ্রহণ করতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিএনপির অভ্যন্তরেই বিএনপি সরকারের সাফল্যের পরিপন্থী শক্তি যেন ক্রমান্বয়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য সুচিন্তিত কৌশল নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবিরোধী প্রত্যয় বাস্তবায়নে অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে জুলাই সনদের সম্পূর্ণ দ্বিমতহীন ৭৪ ধারা অনুযায়ী সব জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব গ্রহণের ৩ মাসের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের আয়-ব‍্যয় ও সম্পদ বিবরণী বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করার বাধ্যবাধকতাসহ অবিলম্বে ওয়েবসাইটে প্রকাশের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ চর্চা সব খাত ও পর্যায়ের সরকারি কর্মচারী ও অন্যান্য জনবল যাদের বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হয়, তাদের সবার জন্য প্রযোজ্য করাসহ জুলাই সনদে বর্ণিত সব রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত প্রস্তাবনা অনুযায়ী সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার অবৈধ ঘোষণা করতে হবে।

‘এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষ করে স্বার্থের সংঘাতমুক্ত ভূমিকা পালন নিশ্চিতের স্বার্থে নবনিযুক্ত গভর্নরের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। সংশ্লিষ্ট খাতে পরীক্ষিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং সর্বোপরি গভর্নরের দায়িত্বের আওতাভুক্ত সব বিষয়ে স্বার্থের দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে ভূমিকা পালনে সক্ষম এমন ব্যক্তিকে নিয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি’, যোগ করেন তিনি।