সেলফি পরিবহনের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে সেলফি পরিবহনের বাসের রুট পারমিট বাতিলের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

আজ সোমবার সকাল ১১টার দিকে শিবালয় উপজেলার বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নাগরিক সমাজের ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, সেলফি পরিবহনের বাস নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। বেপরোয়া ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে চালানো, অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিংয়ের কারণে মাঝেমধ্যেই পরিবহনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। কেউ কেউ মাদক সেবন করে গাড়ি চালান। এতে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

প্রায় এক ঘণ্টার মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা প্রদক্ষিণ করে স্থানীয় বাজার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট একই দাবিতে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পুখুরিয়া এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। ৩১ আগস্ট একই দাবিতে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন।

ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। প্রতিটি দুর্ঘটনার সঙ্গে মানুষের জীবন, পরিবারের স্বপ্ন ও রাষ্ট্রের সম্পদ জড়িত। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহনের বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনা ও জনমনে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুন আরা সুলতানা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ বিষয়ে সম্প্রতি সব অংশীজনকে নিয়ে সভা করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আবারও সবাইকে নিয়ে সভা আহ্বান করে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিয়ে পরিবহনটির কী কী অনিয়ম-অসংগতি রয়েছে, তা সমাধানে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।’

২০২২ সালের ১৩ জুলাই ঘিওরের তরা এলাকায় সেলফি পরিবহনের বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হন। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পরিবহনটির দুটি বাস ভাঙচুর ও একটি বাসে আগুন দেন। সে সময় সেলফি পরিবহনের বাস চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কয়েকদিন পর আবার তা চালু করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি ও সেলফি পরিবহনের প্রতিনিধি আব্দুর রাজ্জাক লিটন বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনা রোধে আমাদের বাস চালকদের কাউন্সিলিং করছি। আশা করি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এটা কাজে লাগবে। এতে যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।’