সাজেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, বিপাকে পর্যটকরা
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে আজ রোববার ভোর ৬টা থেকে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের ১০ নম্বর, রেতকাবা, উজোবারসহ বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়কে আটকে রাখেন অবরোধকারীরা।
এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন সাজেক ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকরা। অবরোধের কারণে সকাল থেকে কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি পর্যটনকেন্দ্র থেকে বের হতে পারেনি।
এর আগে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটি।
তাদের দেওয়া আলটিমেটাম অনুযায়ী ৮ অক্টোবরের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় গতকাল শনিবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এক যৌথ বিবৃতিতে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয়।
বাবুধন চাকমা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। তবে, রোগী বহনকারী গাড়ি, সংবাদকর্মীদের গাড়ি, ওষুধ ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।'
পর্যটকদের ভোগান্তি প্রসঙ্গে সাজেক রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক মতিজয় ত্রিপুরা বলেন, 'সকাল থেকে কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি বের হতে পারেনি। গতকাল প্রায় ১০০টি গাড়ি পর্যটনকেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। এখানে ৫০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছেন।'
যোগাযোগ করা হলে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, 'সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। পুলিশ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে এ নিয়ে কাজ করছে।'
দুই সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়, 'সাজেকে সশস্ত্র তৎপরতা শুরু করেছে জেএসএস। স্থানীয়দের ভয়ভীতি, হুমকি দিচ্ছে সংগঠনটি। প্রশাসন ব্যবস্থা না নেওয়ায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।'
এ অভিযোগের বিষয়ে জেএসএসের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, 'জেএসএসকে সরানোর জন্য যদি এই অবরোধ হয়ে থাকে, তাহলে বলতে হবে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে অবরোধ ডাকা হয়নি। আমরা জানতে পেরেছি, ওই দুই সংগঠন দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জেএসএসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চলছে।'