১৭ মাসে মব সন্ত্রাসে নিহত অন্তত ২৫৯: এইচআরএসএস

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, এই ১৭ মাসে সারাদেশে ৪১৩টি গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫৯ জন।

এছাড়া, গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫ জন। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭০ জন।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব সহিংসতার প্রতিবেদন’ প্রকাশ করে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। 

সংস্থাটি ১৫টি জাতীয় দৈনিক, দেড় শতাধিক স্থানীয় পত্রিকা এবং জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১৬২টি নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে দলীয় মনোনয়ন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাতের মাত্রা বেড়েছে।

নির্বাচনী সহিংসতার একটি বড় অংশজুড়েই ছিল রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এইচআরএসএসের তথ্যমতে, মোট ১৬২টি ঘটনার মধ্যে ৪০টিই ছিল বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ। এসব ঘটনায় দলটির ৩৩৪ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। 

গণপিটুনিতে ২৫৯ মৃত্যু

একই সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে এইচআরএসএস। প্রতিবেদনে মব সন্ত্রাস ও গণপিটুনির ঘটনা বৃদ্ধিকে চরম উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত, এই ১৭ মাসে সারাদেশে ৪১৩টি গণপিটুনি বা মব সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ২৫৯ জন। 

হত্যার ধরণ ছিল অত্যন্ত নৃশংস—কাউকে পিটিয়ে শরীর থেঁতলে দেওয়া হয়েছে, আবার কাউকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। মিথ্যা ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাস নামের এক পোশাক শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৯৫ মৃত্যু

এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে অন্তত ১ হাজার ৪১১ টি ‘রাজনৈতিক সহিংসতার’ ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত ১৯৫ জন নিহত ও ১১ হাজার ২২৯ জন আহত হয়েছেন। 

আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতা, সমাবেশকেন্দ্রিক সহিংসতা, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখলকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটেছে। 

১ হাজার ৪১১টি সহিংসতার ঘটনার মধ্যে অর্ধেকই (৭০৪ টি) ছিল বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের অন্তর্কোন্দল। এসব কোন্দলে অন্তত ১২১ জন নিহত ও ৭ হাজার ১৩১ জন আহত হন। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংষর্ষে, হেফাজতে ও নির্যাতনে অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে সংঘর্ষে বা কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৬ জন, নির্যাতনে ২২ জন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ১২ জন এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে ২০ জন নিহত হয়েছেন। এর বাইরে এ সময়ে সারাদেশে কারা হেফাজতে অন্তত ১২৭ জন আসামি মারা গেছেন। 

এছাড়া, গত ১৭ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কমপক্ষে ৫৬টি হামলার ঘটনায় ১ জন নিহত, ২৭ জন আহত, ১৭টি মন্দির, ৬৩টি প্রতিমা ও ৬৫টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে । দেশে জমি দখলের মতো ৬টি ঘটনা ঘটেছে।