বিএনপির সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশানে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় সংসদ সদস্যদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন।
এই কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন তারেক রহমান। এতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় নেতারা বলেন, কর্মশালায় সংসদের কার্যপ্রণালী; আচরণবিধি; বিল প্রণয়ন ও পর্যালোচনা; বাজেট সংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণ ও সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হবে। অভিজ্ঞ এমপিরা তাদের অভিজ্ঞতা নতুনদের কাছে তুলে ধরবেন।
তারা বলেন, সরকার এবং সরকারি দলের দক্ষতা বাড়ানোই এই কর্মশালার উদ্দেশ্যে।
আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই অধিবেশন আহ্বান করেন। অধিবেশনের আগে নতুন এমপিদের প্রস্তুত করতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে বিএনপি।
কর্মশালায় সংসদ কার্যকর করতে সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্ব ও ভূমিকা সম্পর্কে তুলে ধরবেন সংসদ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও প্রবীন সংসদ সদস্যরা।
দুই দিনের কর্মশালাটি বেশ কয়েকটি পর্বে সাজানো হয়েছে। প্রথমদিন সকালের পর্বে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিকেলের পর্বে রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা ও ফরিদপুর বিভাগের একাংশ এবং শেষদিন (শনিবার) সকালের পর্বে ঢাকা জেলা, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও ঢাকা বিভাগের বাকি এমপিরা এবং বিকালের পর্বে সিলেট, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বিভাগের এমপিরা অংশ নেবেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৯ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যার মধ্যে ১৪৬ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যাবেন। দলীয় নেতারা জানান, তাদের অনেকেরই সংসদীয় বিধিবিধান ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে আগের কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, কীভাবে পয়েন্ট অব অর্ডার উত্থাপন করতে হয়; বিল প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করে আলোচনায় অংশ নিতে হয়; নিজের এলাকায় সমস্যা কীভাবে তুলে ধরতে হয়; রাষ্ট্রপতির দেওয়া ভাষণের ওপর আলোচনা এবং সংসদ অধিবেশনে এমপিদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা বিষয়ে কর্মশালায় দলের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে।