ধনিয়া পাতা অপছন্দ করেন, আজ তাহলে আপনার দিন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

আমাদের খুব পরিচিত একটি পাতাজাতীয় সবজি ধনিয়া পাতা। যেকোনো খাবারের স্বাদ বাড়াতে ধনিয়া পাতার জুড়ি নেই। তবুও কিছু মানুষ ধনিয়া পাতা পছন্দ করেন না। আর আজ একটি অদ্ভুত দিবস আছে। সেই দিবসটি তাদের জন্য, যারা ধনিয়া পাতা একেবারেই পছন্দ করেন না।

আজ ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘ইন্টারন্যাশনাল আই হেট কোরিয়েন্ডার ডে’, যার সহজ বাংলা ‘আমি ধনিয়া পাতা অপছন্দ করি’ দিবস। ব্যাপারটা শুনতে বিচিত্র লাগলেও মজার ব্যাপার হলো ২০১৩ সাল থেকে এমন একটি দিবস পালিত হয়ে আসছে।

ন্যাশনাল টুডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ফেসবুকে ‘আই হেট কোরিয়েন্ডার’ নামে একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়। সেখানে সমমনা মানুষ যোগ দেন এবং ধনিয়া পাতার বিরুদ্ধে নানান পোস্ট করেন। মুহূর্তেই ওই গ্রুপে দুই লাখের বেশি সদস্য যোগ হয়। গ্রুপটি এত জনপ্রিয় যে, তারা নিজেদের পণ্যও বিক্রি করে। ওই গ্রুপের সদস্যদের মতে, বিশ্বের প্রায় ১০ শতাংশ মানুষ ধনিয়া পাতা পছন্দ করে না। তাদের দাবি হলো, রেস্টুরেন্টগুলোর মেনুতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে, কোন খাবারে ধনিয়া পাতা আছে।

মজার বিষয় হলো, ধনিয়া পাতা অপছন্দ করার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ইউরোপীয়দের মধ্যে। আরও মজার তথ্য হলো, ধনিয়া পাতার নাম এসেছে গ্রিক শব্দ ‘করিস’ থেকে, যার অর্থ ‘দুর্গন্ধযুক্ত পোকা’।

গবেষণায় দেখা গেছে, ধনিয়া পাতা অপছন্দের পেছনে জিনগত কারণ থাকতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার ডায়কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালিত এক গবেষণা অনুযায়ী, কিছু মানুষের জিন এমনভাবে গঠিত যে, তারা ধনিয়া পাতায় থাকা নির্দিষ্ট অ্যালডিহাইড যৌগের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। (অ্যালডিহাইড হলো একটি জৈব যৌগ। এগুলো অত্যন্ত বিক্রিয়াশীল, তীব্র গন্ধযুক্ত এবং সুগন্ধি, প্লাস্টিক ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।)

এই একই যৌগ সাবান ও কিছু পরিষ্কারক দ্রব্যেও পাওয়া যায়। তাই তাদের কাছে ধনেপাতার স্বাদ ‘সাবানের মতো’ লাগে।
কিছু মানুষ ধনিয়া পাতা অপছন্দ করলেও ধনে পাতায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি ও কে আছে। ধনিয়া পাতায় থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।

এছাড়া ধনে পাতায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ক্যারোটিন, কোরিয়ান্ড্রল, এবং কুইরসেটিন ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে। এটি ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এবং ত্বকের বার্ধক্য প্রতিরোধে সহায়ক।