তিন উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

By ক্রীড়া প্রতিবেদক

অসম্ভব রান তাড়ায় নেমে অ্যাপ্রোচ ঠিক করা ছিল মুশফিল। কারণ দুই অ্যাপ্রোচেই আছে বিপদ। বাংলাদেশ নিল ইতিবাচক ভূমিকা। তাতে লাভ হয়নি। চা-বিরতির আগে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান বিদায় নিয়েছেন।

পাল্লেকেলেতে দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন চা-বিরতিতেই হারের শঙ্কা ঘিরে ধরেছে বাংলাদেশকে। টার্ন আর বাউন্সের মাঝে ৪৩৭ রান তাড়ায় খেলতে নেমে ৩ উইকেটে ১১২ রান তুলেছে মুমিনুল হকের দল। ২৭ করে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক  মুমিনুল, ১ রান করে তার সঙ্গী মুশফিকুর রহিম।

প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া প্রাভিন জয়াবিক্রমা এরমধ্যে নিয়েছেন ২ উইকেট, আরেক স্পিনার রমেশ মেন্ডিস পেয়েছেন বাকি উইকেট।

পাহাড়সময় রান তাড়ায় নেমে বরাবরই মতই তামিম ইকবাল আনেন আগ্রাসী শুরু। কিন্তু এদিন আর শুরুটা বড় করা হয়নি। রমেশের দারুণ এক ডেলিভারি ইতি টানে তামিমের।

২৬ বলে ২৪ রান করা তামিম শার্প টার্নে পরাস্ত হয়ে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। তামিমের ফেরার পর তার ভূমিকা নেন সাইফ হাসান। তরুণ এই ওপেনার ছিলেন বড় রানের খোঁজে। শুরুটা তারও ভাল।

দৃষ্টিনন্দন শটে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ইনিংস।  দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে গড়ে উঠেছিল জুটি।

অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে ৪২ রানেই থামে জুটি। জয়াবিক্রমাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৪৬ বলে ৩৪ করা সাইফ।

৭৩ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর ক্রিজে এসে ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করতে থাকেন অধিনায়ক মুমিনুল হকও। আরেক পাশে সাবলীলভাবে খেলতে থাকা নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে গড়ে উঠছিল জুটি।

জুটিতে ৩১ রান আসার পরই ছেদ। জয়াবিক্রমার বল ঠেকাতে গিয়েছিলেন শান্ত। শার্প টার্ন করে তা তার ব্যাট স্পর্শ করে লাগে স্টাম্পে। ৪৪ বলে ২৬ করে থামেন প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি পাওয়া এই ব্যাটসম্যান।  

রোববার সকালে বাংলাদেশের স্পিনাররা তেমন টার্ন না পেলেও লঙ্কান স্পিনারদের হাতে বল উঠতেই বদলে যায় ছবি। দারুণ টার্ন-বাউন্স আদায় করে ব্যাটসম্যানদের টিকে থাকা ক্রমশ কঠিন করে তুলেছেন তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

(চতুর্থ দিনের চা বিরতি পর্যন্ত)

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস:  ৪৯৩/৭ (ইনিংস ঘোষণা)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস:  ২৫১

শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ৪২.২ ওভারে ১৯৪/৯ (ইনিংস ঘোষণা)

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২৬ ওভারে ১১২/৩  (লক্ষ্য ৪৩৭) (তামিম ২৪, সাইফ ৩৪, শান্ত ২৬, মুমিনুল ব্যাটিং ২৭*, মুশফিক ব্যাটিং ১*; লাকমাল ০/১৪, রমেশ ১/৬০, জয়াবিক্রমা ২/৩১)