পাকিস্তানের বিপক্ষে ‘নতুন ইতিহাস’ গড়তে চায় বাংলাদেশ
২০২৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে ইতিহাস লিখেছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে প্রথমবার টেস্ট সিরিজে হারানোর আনন্দে ভেসেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। পাকিস্তানের মাঠে হওয়া জয়টা ছিল আরও বিশেষ। তারপর পেরিয়েছে আরও ২০ মাস। দুই দলেরই স্কোয়াডে এসেছে কিছুটা বদল। পাকিস্তানের শাহীন শাহ আফ্রিদির মতে যা এখন অতীত। বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্সও বললেন সেই সুখস্মৃতি এখন ইতিহাস, তারা এবার গড়তে চান নতুন ইতিহাস।
শুক্রবার থেকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে ফের মুখোমুখি বাংলাদেশ। এবার ভেন্যু নিজেদের মাঠ। দুই টেস্টের সিরিজে তাই জেতা তো বটেই আরেকটি ইতিহাসের ছকও কষছেন সিমন্স। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে জানালেন তেমনটা, ‘সেটি (২০২৪ সালের জয়) এখন ইতিহাস। আমরা নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। তখন কী হয়েছিল তাতে কিছু যায় আসে না। হ্যাঁ, আপনি এটি মনে রাখতে পারেন কারণ এটি আপনাকে আত্মবিশ্বাস জোগায়, কিন্তু এটি একটি নতুন খেলা এবং নতুন জায়গা। আমরা এখন বাংলাদেশে আছি, পাকিস্তানে নয়। আমাদের সেসব বিষয় পেছনে ফেলে শুক্রবারে মনোযোগ দিতে হবে।’
বাংলাদেশ সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল গেল নভেম্বরে। মাঝের সাড়ে পাঁচ মাস ক্রিকেটাররা ব্যস্ত ছিলেন সাদা বলের সিরিজে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলায় অবশ্য কিছুটা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরেও ছিলেন তারা।
লম্বা বিরতি দিয়ে টেস্টে নামার আগে মানসিকতার বদলকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের কোচ, ‘এটি মানসিক পরিবর্তনের বিষয় বেশি, তবে একই সঙ্গে এখানে এমন বেশ কয়েকজন আছেন যারা গত কয়েক মাসে সাদা বলের ক্রিকেট খেলেননি। তারা গত কয়েক মাস ধরে লাল বল নিয়ে কাজ করছেন, তাই আমার মনে হয় এই পরিবর্তনটি আপনার ভাবনার চেয়েও সহজ হবে।’
সফররত পাকিস্তান দলের বোলিং আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। দুই স্পিনার সাজিদ খান ও নোমান আলি টেস্টে বেশ কার্যকর। মোহাম্মদ আব্বাস, শাহীন আফ্রিদি আর হাসান আলিদের নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ জুতসই। প্রতিপক্ষের সব রকম অস্ত্র থাকায় কেমন কন্ডিশনে খেলে ঘরের মাঠের সুবিধা নেয়া যায় এটাও একটা ভাবনার বিষয়। তবে সিমন্স মনে করেন, স্পোর্টিং উইকেটে সেরাদের সামলাতেই তৈরি তারা, ‘হোম কন্ডিশন বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন তা জানি না। এটি একটি ভালো ক্রিকেট পিচ হতে যাচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আমরা কীভাবে ব্যাটিং করব তা আমাদের ঠিক করতে হবে। আপনি র্যাঙ্কিংয়ে আরও উপরে উঠতে চান, তাই আপনাকে এই সব উচ্চমানের বোলারদের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। দল হিসেবে আমরা জানি যে বড় স্কোর করার চেষ্টায় তাদের বিপক্ষে আমাদের দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করতে হবে। এখন সবাই বড় স্কোর করার মানসিকতায় আছে, যা একটি ভালো দিক।’