ইংল্যান্ডের কাছে ধরাশায়ী হওয়ার পর আইসিসির জোড়া শাস্তিও পেল পাকিস্তান
মাঠে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার চরম তিক্ততা তো ছিলই। এবার মাঠের বাইরেও বড় মাশুল গুনতে হলো পাকিস্তানকে। বার্মিংহামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে শুধু হারেনি দলটি, মন্থর ওভার রেটের কারণে আইসিসির জোড়া শাস্তিও পেয়েছে তারা।
এজবাস্টন টেস্টে নির্ধারিত সময়ে ১১ ওভার পিছিয়ে ছিল বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে দলটির ১১ পয়েন্ট কেটে নিয়েছে আইসিসি। এর পাশাপাশি খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে এই জোড়া সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
পয়েন্ট কাটা যাওয়ায় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে আরও চেপে বসল পাকিস্তান। মাত্র ৪.৬৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তারা নবম স্থানে রয়েছে। আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের পয়েন্টের হার ২০.৮৩।
আইসিসির ম্যাচ রেফারি রঞ্জন মাদুগালে এই শাস্তির নির্দেশ দেন। এজবাস্টন টেস্ট শেষে অন-ফিল্ড আম্পায়ার পল রাইফেল ও ক্রিস গ্যাফানি, তৃতীয় আম্পায়ার আল্লাহুদিয়েন পালেকার এবং চতুর্থ আম্পায়ার রাসেল ওয়ারেন ওভার রেট ঘাটতির প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে প্রতি ওভার কম করার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ করে জরিমানা করা হয়। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
অন্যদিকে, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বিধি অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য কাটা যায় ১ পয়েন্ট। পাকিস্তান ১১ ওভার পিছিয়ে থাকায় কাটা গেছে পুরো ১১ পয়েন্ট।
ম্যাচ রেফারি মাদুগালের দেওয়া শাস্তি মেনে নিয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর। তাই আনুষ্ঠানিক শুনানির কোনো প্রয়োজন হয়নি।
সফরের শুরু থেকেই ব্যাকফুটে ছিল পাকিস্তান। লিডসে প্রথম টেস্টে তারা হারে ইনিংস ও ১০৩ রানের ব্যবধানে। লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ১৯৪ রানে জয়ের পর শেষ টেস্টে ইংল্যান্ড জয় পায় ৮ উইকেটে। ফলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করে স্বাগতিকরা।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের পরবর্তী মিশন আগামী নভেম্বরে। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে তারা। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে রাওয়ালপিন্ডি ও লাহোরে।
টেস্ট ক্রিকেটে ভীষণ বাজে সময় পার করছে পাকিস্তান দল। সবশেষ ২১ টেস্টের ১৬টিতেই হেরেছে তারা। আর টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্রে এখন পর্যন্ত নয়টি টেস্ট খেলে মাত্র দুটি জিততে পেরেছে দলটি।
