অবিশ্বস্ততার অভিযোগে ইরান দল থেকে বহিষ্কার আজমুন!
ইরানের ফুটবলে নতুন এক ঝড় তুলেছে সরদার আজমুনকে ঘিরে বিতর্ক। জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা এই তারকাকে ‘অবিশ্বস্ত আচরণ’-এর অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে তার খেলা এখন কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
৩১ বছর বয়সী সরদার আজমুন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের আক্রমণভাগের প্রধান শক্তি। ২০১৪ সালে কিশোর বয়সে অভিষেকের পর থেকে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করে নিজেকে দেশের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লাব শাবাব আল-আহলিতে খেলেন এই ফরোয়ার্ড।
তবে সম্প্রতি একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টই যেন তার ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাকতুমের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি পোস্ট করেন আজমুন। ঠিক এমন এক সময় এই ছবি প্রকাশ পায়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়, এবং সেই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে জানা যায়।
এই প্রেক্ষাপটে আজমুনের পোস্টকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অবিশ্বস্ত’ আচরণ হিসেবে দেখছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। ফার্স নিউজ এজেন্সির এক প্রতিবেদনে জাতীয় দলের অভ্যন্তরীণ একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই কারণেই তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
যদিও পরে সেই ছবি মুছে ফেলেন আজমুন, তবুও সমালোচনার ঝড় থামেনি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ফুটবল বিশ্লেষক মোহাম্মদ মিসাঘি কঠোর ভাষায় তার সমালোচনা করে বলেন, 'এটা দুঃখজনক যে, আপনি সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী কী আচরণ করা উচিত, সেটুকুও বুঝতে পারেন না। জাতীয় দলের জার্সি পরার যোগ্যতা তার নেই।'
তিনি আরও বলেন, 'এ ধরনের শিশুসুলভ আচরণের জন্য আমাদের কোনো সহানুভূতি নেই। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের এমন হতে হবে, যারা গর্বের সঙ্গে জাতীয় সংগীত গাইবে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতা রাখবে।'
এ বিষয়ে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
আজমুনের অনুপস্থিতি ইরান জাতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসতে পারে, বিশেষ করে যখন বিশ্বকাপের আগে দলটি প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২৭ মার্চ তুরস্কের আনতালিয়ায় নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং চার দিন পর কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে তাদের।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে। এমন পরিস্থিতিতে আজমুনকে হারানো ‘টিম মেল্লি’র জন্য যে বড় এক ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য।