প্রথমার্ধেই ভরাডুবি, ভিয়েতনামে বড় হার বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক

শুরুতেই গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের ভুলে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই রক্ষণভাগের দুর্বলতায় আরও দুই গোল হজম করতে হয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হতেই তিন গোলের ভারী ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে দলটি। তবে বিরতির পর কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেও আর গোল শোধ করা সম্ভব হয়নি। স্বস্তির বিষয়, দ্বিতীয়ার্ধে অন্তত আর কোনো গোল হজম করেনি তারা।

বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিকদের কাছে ৩-০ গোলে পরাজিত হয় বাংলাদেশ। ভিয়েতনামের হয়ে একটি করে গোল করেন ফ্যাম জুয়ান মান ও হাই লং এনগুয়েন, আর একটি গোল আসে বাংলাদেশের আত্মঘাতী ভুলে।

ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১০৩ নম্বরে অবস্থান করা ভিয়েতনামের বিপক্ষে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না বাংলাদেশের জন্য। দলের সেরা একাদশের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রাখা হয়, তার সঙ্গে ছিল ইনজুরির দুশ্চিন্তা। ফলে শুরু থেকেই কিছুটা ব্যাকফুটে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দীর্ঘ সময়ের চোট কাটিয়ে ফেরা  দলের প্রধান ভরসা হামজা চৌধুরীও ছিলেন না সেরা ছন্দে। সব মিলিয়ে কঠিন এক পরীক্ষার মুখোমুখিই হতে হয় সফরকারী বাংলাদেশকে।

ম্যাচের শুরুতেই যেন ছন্দপতন বাংলাদেশের। অষ্টম মিনিটে কর্নার ঠেকাতে এগিয়ে এসে লাফ দিয়েও বলের নাগাল পাননি গোলরক্ষক শ্রাবণ। সুযোগটি লুফে নেন ফাম তুয়ান হাই, তার নেওয়া শট জায়ান আহমেদের পায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়িয়ে যায়। গোল হজমের পর অবশ্য কিছুটা দৃঢ়তা দেখান শ্রাবণ, পরপর দুটি দারুণ সেভে দলকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

তবে সেই প্রতিরোধ বেশিক্ষণ টেকেনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে ভিয়েতনাম। সতীর্থের নেওয়া ফ্রি কিকে নিখুঁত হেডে গোল করেন ফাম হুয়ান মান, যা বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। ম্যাচের ২০তম মিনিটে প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে শট নিতে পারে বাংলাদেশ, বক্সের বাইরে থেকে ফাহিমের নেওয়া জোরালো শট ঝাঁপিয়ে ফিস্ট করে ফিরিয়ে দেন ভিয়েতনামের গোলরক্ষক।

প্রথমার্ধের শেষ দিকে আবারও আঘাত হানে স্বাগতিকরা। হাই লংয়ের তীক্ষ্ণ কোনাকুণি শটে অসহায় হয়ে পড়েন শ্রাবণ, লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি তিনি। ফলে ৩-০ গোলের স্বচ্ছ লিড নিয়েই বিরতিতে যায় ভিয়েতনাম।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টায় একাদশে পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশের কোচ কাবরেরা। মিরাজুল ইসলামের জায়গায় শেখ মোরসালিন এবং ফাহামিদুল ইসলামের বদলে নামানো হয় শাহরিয়ার ইমনকে। পরবর্তীতে ৬৯তম মিনিটে আরও দুই পরিবর্তন, বিশ্বনাথ ঘোষ ও সুমন রেজাকে মাঠে নামানো হয়, মাঠ ছাড়েন সাদ উদ্দিন ও ফয়সাল আহমেদ। কিন্তু কৌশলগত এসব পরিবর্তনেও ম্যাচের চিত্র পাল্টানো যায়নি। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের হতাশাজনক হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে তাদেরই মাঠে খেলবে বাংলাদেশ। তবে বাছাইপর্ব পেরোনোর স্বপ্ন আগেই শেষ হয়ে গেছে। পাঁচ ম্যাচে এক জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে দলটি।