সিঙ্গাপুরের কাছে হারের ব্যাখায় ডুলি

‘ফুটবল তো কেবল দৌড়ঝাঁপ নয়, দাবার মতো খেলা’

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আসিয়ান কাপে প্রথম ম্যাচে মালোয়েশির কাছে রীতিমতো বিধ্বস্ত হয়েছিলো বাংলাদেশ। সেই তুলনায় সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হামজা চৌধুরীদের পারফরম্যান্সে দেখা গেছে অনেক উন্নতি। যদিও হার এড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। এই ম্যাচ হেরে আসর থেকে বিদায় নিয়ে নিজের ফুটবল দর্শন মেলে ধরে দলের ঘাটতি তুলে ধরেছেন কোচ থমাস ডুলি। ।

সোমবার জাকার্তায় আসিয়ান কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারে বাংলাদেশ। এই হারের ব্যাখ্যা দিতে এসে ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোগত দুর্বলতা ও মানসিকতাকে বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন কোচ। ডুলির স্পষ্ট কথা—দেশে নিয়মিত লিগ না থাকা আর বৃষ্টির কারণে অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়ার খেসারতই এখন দিতে হচ্ছে জাতীয় দলকে।

ডুলির দর্শনে পজেশন ফুটবলই মূল। আন্দাজে লম্বা শট খেলার প্রথাগত অভ্যাসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৯০ শতাংশ লং বলই প্রতিপক্ষের পায়ে চলে যায়। আপনি বল হারাবেন, আর শুধু তার পেছনে দৌড়াবেন। আমি ফুটবল খেলা পছন্দ করি; বলের পেছনে এভাবে দৌড়ে বেড়ানো পছন্দ করি না। মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে ফুটবলারদের ১০ হাজার মিটার দৌড়ের মধ্যে ৮ হাজার মিটারই ছিল বলের পেছনে ছোটাছুটি, যা মোটেও ভালো ফুটবল নয়।’

কোচের মতে, আধুনিক ফুটবল চালাতে হয় বুদ্ধি, ‘ফুটবল হলো দাবা খেলার মতো। পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে, ২-৩ সেকেন্ড পর কি ঘটতে যাচ্ছে—সেটা আগেই বুঝতে হবে। সতীর্থদের অবস্থান ভালো করে স্ক্যান করতে না পারলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অসম্ভব।’ 

তবে নিয়মিত লিগ ম্যাচ না খেললে খেলোয়াড়দের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বা বুদ্ধি তৈরি হওয়া কঠিন বলেও মনে করেন তিনি।

মার্কিন এই কোচ জানান, বাংলাদেশে বৃষ্টির কারণে তাদের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন ভেস্তে গিয়েছিল। ফলে ফ্রি-কিক বা কর্নারের মতো সেট-পিস নিয়ে যে পরিকল্পনা ছিল, অনুশীলনের অভাবে ম্যাচে তা নামানোই সম্ভব হয়নি। তার ওপর নিয়মিত লিগ না থাকায় প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বাইরে থাকার কারণে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও মনসংযোগে টান পড়ছে।

সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে একাদশে পরিবর্তন এনে জামাল ভূঁইয়া ও জিদান আলেক্সান্ডার ইউসুফকে নামিয়ে পাসিং ফুটবল এবং শারীরিক লড়াইয়ে বাংলাদেশ উন্নতি দেখায়। তবে লিগ ও প্রস্তুতির ঘাটতির কারণেই ফিনিশিং লাইনে গিয়ে সব আটকে যায়। পুরো ম্যাচে লড়াই করলেও কেবল ১ সেকেন্ডের অসতর্কতায় সিঙ্গাপুরের হারিস স্টুয়ার্টকে ফাঁকায় পেয়ে হেডার গোল করার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ। তাছাড়া দেশে প্রস্তুত কোনো প্রফেশনাল স্ট্রাইকার না থাকায় সুযোগ তৈরি করেও গোল করা সম্ভব হয়নি।

সব মিলিয়ে, ডুলি খেলোয়াড়দের কৌশল বদলানোর চেষ্টা করলেও ঘরোয়া লিগের ঘাটতি, প্রাক-মৌসুম অনুশীলনের অভাব এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের বাইরে থাকার বাস্তবতাই বাংলাদেশকে বারবার পিছিয়ে দিচ্ছে।