শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে এমবাপের গোলে রিয়ালের কষ্টার্জিত জয়

স্পোর্টস ডেস্ক

নাটকীয়তা ও উত্তেজনায় ঠাসা লা লিগার ম্যাচে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে রক্ষা পেল রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার রাতে ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রায়ো ভায়েকানোকে ২-১ ব্যবধানে হারাল আলভারো আরবেলোয়ার দল।

দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি থেকে করা গোলটিই ব্যবধান গড়ে দেয়। তখন ঘড়ির কাঁটায় ম্যাচের বয়স ১০০ মিনিট! এই জয়ে ২২ ম্যাচে ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান ১ পয়েন্টে নামিয়ে এনেছে রিয়াল।

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকার কাছে হারের ধাক্কা সামলে লিগে জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় রিয়াল। ম্যাচের দশম মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তারকা মিডফিল্ডার জুড বেলিংহ্যাম।

সেই হতাশা কাটিয়ে ১৫তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দর্শনীয় গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ব্রাহিম দিয়াজের পাস ধরে রায়োর তিন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি। তবে প্রথমার্ধে লস ব্লাঙ্কোরা ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি আর্দা গুলার ও ভিনিসিয়ুস।

দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে রিয়ালের রক্ষণের দুর্বলতায় সমতায় ফেরে সফরকারীরা। রিয়ালেরই সাবেক খেলোয়াড় হোর্হে দে ফ্রুতোস সহজেই বল জালে পাঠান। এরপর ৬৪তম মিনিটে আন্দ্রেই রাতসু গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হলে বেঁচে যায় স্বাগতিকরা। বল পা দিয়ে আটকে দেন থিবো কোর্তোয়া।

তিন মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে উঠে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে কাটিয়েও ফাঁকা জালে লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি এমবাপে। অবিশ্বাস্যভাবে তিনি বল ক্রসবারে মারেন।

৮০তম মিনিটে দানি সেবায়োসকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন রায়োর পাথে সিস। ফলে ম্যাচের শেষদিকে তৈরি হয় চরম নাটকীয়তা। ১০ জনের দলের বিপক্ষে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে রিয়াল। তবে এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গার শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশ হয় তাদেরকে।

সব আফসোস উবে যায় একদম শেষ মুহূর্তে। যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে ডি-বক্সে ব্রাহিম ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় রিয়াল। লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপে স্পট-কিক থেকে জাল কাঁপিয়ে দলকে স্বস্তির জয় এনে দেন। আসরে এটি তার ২২তম গোল।

রায়ো খেলা শেষ করে ৯ জনের দল নিয়ে। শেষ বাঁশি বাজার আগে সাইডলাইনের বাইরে রদ্রিগোকে অযথা ধাক্কা দিয়ে জোসেপ মারিয়া দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।