সাফল্য এনে দিয়েও চাকরি হারানোর শঙ্কায় কোচ শারমিন
শুটিংয়ে সাফল্য এনে দেওয়ার পরও অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছেন জাতীয় দলের কোচ শারমিন আক্তার। জার্মানি ও চীনে সাম্প্রতিক আইএসএসএফ বিশ্বকাপে দেশের শীর্ষ দুই শুটারকে ক্যারিয়ারসেরা স্কোরে পৌঁছে দেওয়ার পরও তদন্ত কমিটির সামনে দেওয়া বক্তব্যের কারণে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনে তার চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাবেক এই শুটার ২২ বছরের খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০২৩ সালে কোচিংয়ে আসেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে পদকজয়ী শুটারদের মধ্যে তিনি চতুর্থ। খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্যের পর কোচ হিসেবেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন শারমিন।
তার অধীনে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছেন বাংলাদেশের শুটাররা। জুলাইয়ে চীনে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ বিশ্বকাপে পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে রাব্বি হাসান মুন্না ৬৩০.৩ স্কোর করে নিজের ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স করেন। ফাইনালে উঠতে তার ঘাটতি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ছয় পয়েন্ট।
এর আগে ২০২২ সালে বাকু বিশ্বকাপে রাব্বির স্কোর ছিল ৬২৪.৮। মিউনিখে মে মাসের বিশ্বকাপে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৬২৮-এ। একই আসরে রবিউল ইসলাম টমাসও ৬২৭.৮ স্কোর করে ক্যারিয়ারসেরা পারফরম্যান্স করেন। বিদেশি কোচদের অধীনেও যে উন্নতি দেখা যায়নি, শারমিনের অধীনে সেই ধারাবাহিক উন্নতিই দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।
তবু পারফরম্যান্সের কারণে নয়, অতীতে দেওয়া বক্তব্যের জেরেই শারমিনকে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত মাসে নতুন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরই শারমিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার আগের অ্যাডহক কমিটির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণেই এখন তাকে টার্গেট করা হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০১০ সালের সাফ গেমসে সোনাজয়ী শারমিন আক্তার রত্না, বর্তমান জাতীয় শুটার কামরুন নাহার কলি ও আরেক শুটারের তোলা বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে। সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল। রত্না থানায় এফআইআর করার পর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
সেই কমিটির সামনে শারমিন আক্তার সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি এমন কোনো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেননি।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে নতুন অ্যাডহক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক রত্না সেই সাক্ষ্যের কারণেই শারমিনকে কোচের দায়িত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করছেন। বিষয়টিকে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাবেক এক জাতীয় কোচ বলেন, ‘এটি এমন এক ধরনের ক্ষুব্ধ পদক্ষেপ, যা শেষ পর্যন্ত এশিয়ান গেমসের আগে দেশের শুটিংয়েরই ক্ষতি করবে। কোচ নিয়োগ বা বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অবশ্যই পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে হওয়া উচিত, ক্ষোভ বা প্রতিশোধের ভিত্তিতে নয়।’
ওই সাবেক কোচ আরও অভিযোগ করেন, ফেডারেশনের এক কর্মকর্তা শুটারদের দিয়ে এমন বক্তব্যে স্বাক্ষর করানোর চেষ্টা করেছিলেন, যেখানে স্থানীয় কোচের বদলে বিদেশি কোচের অধীনে প্রশিক্ষণের পছন্দ প্রকাশ করা হয়।
আরেক শুটারও নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, এশিয়ান গেমসের দল ইতোমধ্যে নির্বাচিত হওয়ার পরও নারী ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ও পুরুষ ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে বিশেষ ট্রায়ালের আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযোগ, পছন্দের শুটারদের সুযোগ করে দিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সেই ট্রায়ালেও আগে নির্বাচিত শুটাররাই সবার ওপরে ছিলেন বলে দাবি ওই শুটারের।
শারমিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিতর্কে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাকিফ শামীম ও যুগ্ম সম্পাদক শারমিন আক্তার রত্নার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলাম গতকাল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে শারমিনের ভবিষ্যৎসহ ফেডারেশনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।