ইতিহাসের মঞ্চে জোকোভিচ-আলকারাজ

স্পোর্টস ডেস্ক

টেনিস ইতিহাসের এক অনন্য সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আজকের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল। একদিকে নোভাক জোকোভিচ, গ্র্যান্ড স্ল্যামের ২৫তম শিরোপার হাতছানি। অন্যদিকে কার্লোস আলকারাজ, চার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের 'ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম' পূর্ণ করার স্বপ্ন, সবচেয়ে কম বয়সে। 

রোববার মেলবোর্নে (বাংলাদেশ সময় আজ দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে) এই দুই মহাতারকার দ্বন্দ্বে শুধু একটি ট্রফি নয়, বাজি রয়েছে ইতিহাস। ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে ইতোমধ্যেই কিংবদন্তির আসনে বসে আছেন জোকোভিচ। মেলবোর্ন পার্কেই তার দাপট সবচেয়ে বেশি, এখানে ১০ বার শিরোপা জিতেছেন সার্বিয়ান মহাতারকা। কিন্তু এবার লক্ষ্য আরও বড়: ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতে মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে এককভাবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসনে বসা। দীর্ঘ ২০ বছরের ক্যারিয়ারে সবকিছু জেতা জোকোভিচের জন্য এই শিরোপা হবে এক অনন্য 'ক্রাউনিং মোমেন্ট'।

২০০৮ সালে মেলবোর্ন পার্কেই প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতা জোকোভিচের জন্য এই কোর্ট যেন সৌভাগ্যের প্রতীক। ইয়ানিক সিনারকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে তিনি ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়েছেন। এবার শিরোপা জিতলে হবেন ইতিহাসের সবচেয়ে বয়সী গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী পুরুষ টেনিস খেলোয়াড়।

তবে তার সামনে দাঁড়িয়ে নতুন প্রজন্মের আগুন কার্লোস আলকারাজ। মাত্র ২২ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা ইতোমধ্যেই ফ্রেঞ্চ ওপেন, উইম্বলডন ও ইউএস ওপেন জিতেছেন। অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিততে পারলেই তিনি হয়ে যাবেন ইতিহাসের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড়, যিনি চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যামই জিতেছেন। সেই সঙ্গে ২৩ বছরের আগেই সাতটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের বিরল কীর্তিও গড়বেন আলকারাজ, যা জোকোভিচ নিজেও ২৭ বছর বয়সের আগে পারেননি।

এই ফাইনাল শুধু প্রজন্মের দ্বন্দ্ব নয়, এটি দুই যুগের লড়াই। অভিজ্ঞতা বনাম ক্ষুধা, স্থিরতা বনাম বিস্ফোরণ, ধৈর্য বনাম গতির সংঘর্ষ। ইতোমধ্যেই এই দু'জনের মুখোমুখি লড়াইগুলো আধুনিক টেনিসের ক্লাসিক হয়ে উঠেছে। হেড-টু-হেডে জোকোভিচ এগিয়ে (৫–৪), তবে উইম্বলডনের টানা দুই ফাইনালে আলকারাজ জোকোভিচকে হারিয়েছেন। আবার প্যারিস অলিম্পিক ফাইনালে সোনা জিতে শেষ হাসি হেসেছেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি।

দু'জনই ফাইনালে উঠেছেন ক্লান্তিকর পাঁচ সেটের সেমিফাইনাল খেলে। আলকারাজ ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের ম্যারাথন লড়াইয়ে জেভেরেভকে হারিয়েছেন, যা টুর্নামেন্ট ইতিহাসের দীর্ঘতম সেমিফাইনাল। জোকোভিচও সিনারকে হারাতে লড়েছেন চার ঘণ্টার বেশি।

বয়স, শক্তি আর ক্ষুধার বিচারে আলকারাজ এগিয়ে থাকলেও, মেলবোর্ন পার্কে জোকোভিচ যেন অন্য এক মানুষ। রড লেভার অ্যারেনার নীল কোর্টে তার আধিপত্য প্রায় অলৌকিক। ১০টি ফাইনাল, ১০টি ট্রফি এমন পরিসংখ্যান যে কোনো প্রতিপক্ষের মনোবল ভাঙার জন্য যথেষ্ট। আজকের ম্যাচ তাই শুধু একটি ফাইনাল নয় এটি ইতিহাসের যুদ্ধ।