সিনারের রাজত্বের ইতি টেনে ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে জোকোভিচ
৩৮ বছর বয়সী নোভাক জোকোভিচ যেন ফিরে গেলেন সেই সোনালি অতীতে! পাঁচ সেটের ম্যারাথন লড়াইয়ে গত দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনারকে স্তব্ধ করে দিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে পা রাখলেন তিনি। মেলবোর্ন পার্কের রাজা খ্যাত এই সার্বিয়ান কিংবদন্তি এখন ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে। মার্গারেট কোর্টকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ তার সামনে।
শুক্রবার রড লেভার অ্যারেনায় পুরুষ এককের প্রথম সেমিফাইনালের মতো দ্বিতীয়টিতেও হয়েছে রোমাঞ্চকর লড়াই। পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ সেটে জিতেছেন চতুর্থ বাছাই জোকোভিচ। ২-১ সেটে এগিয়ে থাকা ২৪ বছর বয়সী সিনার শেষ পর্যন্ত মুঠোয় রাখতে পারেননি ম্যাচ। চার ঘণ্টা নয় মিনিটের দ্বৈরথে তাকে ৩-৬, ৬-৩, ৪-৬, ৬-৪ ও ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন জোকোভিচ।
স্থানীয় সময় রাত একটা ৩২ মিনিটে যখন ম্যাচটি শেষ হয়, ততক্ষণে দর্শকরা সাক্ষী হন জোকোভিচের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের। আগামী রোববার অনুষ্ঠেয় ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর টেনিস খেলোয়াড় কার্লোস আলকারাজ। শীর্ষ বাছাই এই স্প্যানিশ প্রথম সেমিতে পেশির টানের (ক্র্যাম্প) তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করেও পান জয়ের হাসি। ৫ ঘণ্টা ২৭ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে তিনি ৬-৪, ৭-৬ (৭/৫), ৬-৭ (৩/৭), ৬-৭ (৪/৭) ও ৭-৫ গেমে তৃতীয় বাছাই আলেকজান্ডার জেভেরেভকে পরাস্ত করেন।
বয়স আর চোট জোকোভিচকে কিছুটা মন্থর করে দিলেও দ্বিতীয় বাছাই ইতালিয়ান সিনারের বিপক্ষে লড়াকু পারফরম্যান্স জানান দিচ্ছে— তার ভাণ্ডারে এখনো অনেক রসদ বাকি। যদিও ২০২৩ সালের ইউএস ওপেনের পর আর কোনো বড় শিরোপা জিততে পারেননি তিনি। তবে সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েই পুরুষ ও নারী একক মিলিয়ে কোর্টের ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের রেকর্ডে ভাগ বসান জোকোভিচ। এরপর গত দুই বছরে মোট আটটি ট্রফি নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন আলকারাজ ও সিনার।
তবে সেই থেকে প্রতিটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম চলাকালে জোকোভিচের কোর্টকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু বারবার বেশ কাছে গিয়ে তাকে আশাহত হতে হয়েছে। এমনকি গত বছর চারটি বড় আসরেই তাকে থামতে হয় সেমিফাইনালে গিয়ে। অবশেষে এবার তিনি জায়গা করে নিলেন শিরোপা নির্ধারণী মঞ্চে— গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে যা দেখেছেন কোর্ট।
পঞ্চম সেটে লড়াই যখন তুঙ্গে, তখন স্নায়ুর চাপে বারবার সুযোগ নষ্ট করতে থাকেন সিনার। বিপরীতে, ছন্দ খুঁজে পাওয়া জোকোভিচ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ৪-৩ গেমের সময় ব্রেক পয়েন্ট আদায় করে তিনি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে নিজের ১১তম ফাইনাল নিশ্চিত করেন। ৪-৫ গেমে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় সিনার দুটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচালেও তৃতীয় চেষ্টায় জয় ছিনিয়ে নেন জোকোভিচ।
ম্যাচ শেষে জোকোভিচ বলেন, 'সত্যি বলতে, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। রাত প্রায় দুইটা বাজে, চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খেলা— সবই পরাবাস্তব মনে হচ্ছে। ২০১২ সালে রাফার (স্প্যানিশ কিংবদন্তি রাফায়েল নাদাল) বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ফাইনালের স্মৃতি মনে পড়ে যাচ্ছে।'
মেলবোর্ন পার্কে খেলা আগের ১০টি ফাইনালের প্রতিটিতেই জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন জোকোভিচ। তবে এবার সেই মঞ্চে ওঠার পর অকপটে স্বীকার করেন যে, সিনারের বিপক্ষে তিনি ফেভারিট ছিলেন না এবং ভাগ্যের ছোঁয়া তার সঙ্গে ছিল। উল্লেখ্য, চতুর্থ রাউন্ডে ইয়াকব মেনসিক চোটের কারণে ছিটকে যাওয়ায় ম্যাচ না খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠেন জোকোভিচ। শেষ আটেও ভাগ্য তার সহায় ছিল। প্রথম দুই সেটে জেতা লরেঞ্জো মুসেত্তি চোট পেয়ে মাঝপথে সরে দাঁড়ালে সেমির টিকিট পান তিনি।