ডেভিডের হ্যাটট্রিকে কাতারকে গোলবন্যায় ভাসিয়ে কানাডার ঐতিহাসিক জয়
তারকা স্ট্রাইকার জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিকে গত বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতারকে গোলবন্যায় ভাসাল কানাডা। ভ্যাঙ্কুভারে শুক্রবার ভোরে 'বি' গ্রুপের ম্যাচে এশিয়ার দলটিকে ৬-০ ব্যবধানে গুঁড়িয়ে দিল এবারের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা। অসাধারণ পারফরম্যান্সে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম জয়ের দেখা পাওয়ার পাশাপাশি নকআউটের পথ সুগম করল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই কানাডিয়ানদের আক্রমণের তোড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে কাতার। প্রথমার্ধেই দুই গোল হজমের পর ডিফেন্ডার হোমাম এল আমিন লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। দ্বিতিয়ার্ধে কড়া ট্যাকলে কানাডার ইসমায়েল কোনের পা ভেঙে দিয়ে আসিম মাদিবোও লাল কার্ড পেলে বাকি সময় ৯ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। মাঠে দুজন খেলোয়াড় বাড়তি থাকার সুযোগ লুফে নিয়ে কাতারের ওপর নির্মম আধিপত্য চালায় কানাডা।
অষ্টম ম্যাচে এসে বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের মধুর স্বাদ পেল উজ্জীবিত কানাডা। ১৯৮৬ ও গত ২০২২ সালের আসরে তিনটি করে মোট ছয়টি ম্যাচ খেলে সবকটিতে হেরেছিল তারা। আর এবারের আসরে তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র দিয়ে।
ম্যাচে স্বাগতিকদের কতটা একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল, তা স্পষ্ট পরিসংখ্যান ঘাঁটলেই। ৭৫ শতাংশের বেশি সময় বল পায়ে রেখে গোলমুখে ৩৩টি শট নেয় কানাডা। এর মধ্যে ১০টিই ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে, কাতারের নেওয়া দুটি শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না।
ম্যাচের ১৬তম মিনিটে এগিয়ে যায় কানাডা। ডেভিডের শট রুখে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা। সুযোগসন্ধানী কাইল ল্যারিন আলতো টোকায় খুঁজে নেন জাল।
২৯তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডেভিড। ডি-বক্সের মুখে বল পেয়ে দুর্দান্ত ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন ইতালিয়ান ক্লাব ইউভেন্তাসের এই ফরোয়ার্ড। ফলে চালকের আসনে বসে পড়ে কানাডা।
কয়েক মিনিট পর আরও বড় ধাক্কা খায় কাতার। পাল্টা আক্রমণে ছুটে যাওয়া টাইয়ন বুকাননকে পেছন থেকে ফাউল করায় এল আমিনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। শুরুতে তিনি পেনাল্টির বাঁশি বাজালেও পরে ভিএআরের সাহায্যে দেখা যায়, ঘটনাটি ছিল ডি-বক্সের বাইরে।
বিরতির ঠিক আগে ল্যারিনের জোরাল হেড আবুনাদা এক হাতে ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে আলতো ছোঁয়ায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ডেভিড। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে অবিশ্বাস্যভাবে নিজেদের মেলে ধরা কানাডা। দ্বিতীয়ার্ধে তারা জাল কাঁপায় আরও তিনবার।
তবে ৫১তম মিনিটে ঘটে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা। মাঝমাঠে মাদিবোর কড়া ট্যাকলের শিকার হয়ে পা ভেঙে যায় কানাডার মিডফিল্ডার কোনের। গুরুতর অবস্থায় স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ছয় মিনিট।
শুরুতে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও পরে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। এর সাত মিনিট পর ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার বাঁকানো শটে গোল করেন কোনের বদলি নামা ন্যাথান সালিবা। চলতি বিশ্বকাপে এটিই সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে আসা প্রথম গোল।
৭৫ তম মিনিটে ব্যবধান আরও বড় হয়। ডি-বক্সে জ্যাকব শাফলবার্গের শট ঠেকাতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন মোহামেদ আল মানাই। আর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে কাতারের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ডেভিড। সালিবার প্রচেষ্টা তার পায়ে আটকে যাওয়ার পর নিচু শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন তিনি।
দীর্ঘ ৬০ বছরের ব্যবধানে স্বাগতিক দেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বমঞ্চে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন ডেভিড। তার আগে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জিওফ হার্স্ট পেয়েছিলেন এই স্বাদ।
এই জয়ে ২ ম্যাচে সমান ৪ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডকে টপকে 'বি' গ্রুপের শীর্ষে উঠল কানাডা। আগামী বুধবার রাতে গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে দল দুটি মুখোমুখি হবে। ২ ম্যাচ খেলে কাতারের পাশাপাশি বসনিয়ার পয়েন্টও সমান ১।