ভিএআরের যুগে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই, এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রটনা: স্কালোনি
আর্জেন্টিনা ও লিওনেল স্কালোনির সংবাদ সম্মেলনে এখন একটি বিষয়ে প্রশ্ন যেন নিয়মিত হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা ছাড়িয়ে এখন স্কালোনির কাছেও পৌঁছে গেছে একই প্রশ্ন, আর্জেন্টিনা কি সত্যিই রেফারিদের থেকে অন্যায্য সুবিধা পায়? বারবার এমন অপ্রীতিকর প্রশ্ন শুনতে শুনতে স্কালোনিও বোধহয় কিছুটা বিরক্তই। এবার তাই বেশ কড়াভাবেই জবাব দিয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ। বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই, বরং এগুলো সবই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রটনা।
মিশরের দ্বিতীয় গোল বাতিলের প্রসঙ্গ উঠেছিল স্কালোনির সংবাদ সম্মেলনে। আর্জেন্টিনা কোচ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটিকে ফাউল ধরা ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ নেই, ‘ভিএআর আসার পরে রেফারিদের থেকে সুবিধা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভিএআরের সিদ্ধান্তের দ্বৈত অর্থ দাঁড় করানোরও সুযোগ নেই। স্পষ্টভাবে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের পা মাড়ানো হয়েছিল। সেটা অল্প হোক বা বেশি, এটি নিশ্চিত ফাউল। এর অন্য কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর কোনো সুযোগ নেই’।
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সৃষ্টি বলেও মন্তব্য করেছেন স্কালোনি, ‘ফুটবলে সহায়তা বলে কোনো বিষয় নেই। বিশেষ করে ২০২৬ সালে এসে এতসব প্রযুক্তির মধ্যেও কারোর থেকে কোনো সহায়তা নেয়া এক কথায় অসম্ভব। খেলার নিয়ম-কানুনগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে’।
মেসিদের কোচ আরও বলেছেন, কেউ কেউ আর্জেন্টিনাকে জিততে দেখতে চায় না বলেই এসব রটাচ্ছে। এসব অপপ্রচারকে তারা বরং অনুপ্রেরণা হিসেবেই নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন কোচ, ‘১৯৮৬ সালেও তারা বলতো, আর্জেন্টিনা অন্যায্য সুবিধা নিচ্ছে। এসব কথা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। আর্জেন্টিনা সবসময়ই বিশ্বকাপে সমীহ করার মতো দল ছিল, এখনো আছে। কিছু মানুষ আছে যারা আর্জেন্টিনাকে জিততে দেখতে পছন্দ করে না। এসব কথাবার্তা আমার দলকে আরও ভালো ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত করে’।
বিশ্বকাপের ঠাসা সূচি নিয়েও অভিযোগ করেছেন স্কালোনি, ‘বিশ্বকাপের শেষ ভাগে এসে ম্যাচগুলোর মধ্যে আরও বিরতি থাকা উচিত ছিল। আমি আগেও এটা বলেছি। এক ভেন্যু থেকে আরেক ভেন্যুর দূরত্ব অনেক, এবং খেলোয়াড়েরা কম সময় বিশ্রাম করতে পারছে। সৌভাগ্যবশত আমাদের খুব বেশি ভ্রমণ করতে হয়নি। তবে যদি আমরা গ্রুপে দ্বিতীয় হতাম, তাহলে এতদিনে আমাদের পুরো যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ করা হয়ে যেতো’।