টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোন পজিশনে ব্যাট করবেন জানালেন পাকিস্তান অধিনায়ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক

আসন্ন আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে ধোঁয়াশা পরিষ্কার করলেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলী আঘা। দলের প্রয়োজনে এবং আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলার লক্ষ্যে তিন নম্বর পজিশনটি নিজের জন্য বেছে নিয়েছেন তিনি।

টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের বড় একটা সময় সালমান আঘাকে দেখা গেছে মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করতে। তবে সম্প্রতি দলের ইনিংসের শুরুতেই প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তিন নম্বরে নামার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন ডানহাতি ব্যাটার।

গত বৃহস্পতিবার লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তিন নম্বরে নেমেই নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন সালমান। বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে ২৭ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন পাকিস্তান কাপ্তান। ম্যাচটিতে পাকিস্তান ২২ রানের জয় পায়।

ম্যাচ শেষে সালমান নিশ্চিত করেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের বাকি ম্যাচ এবং বিশ্বকাপের শুরু থেকেই তাকে এই পজিশনেই দেখা যাবে। স্পিনারদের বিপক্ষে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্যই তাকে এই সিদ্ধান্তে উৎসাহিত করেছে। সালমান আঘা স্পষ্ট করেই বলেন, 'হ্যাঁ, আমি সামনে থেকে তিন নম্বরেই ব্যাটিং করব।'

নিজের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপে) আমাদের প্রচুর স্পিন মোকাবিলা করতে হবে। আমার বিশ্বাস, পাওয়ারপ্লের সময় আমি স্পিনারদের শাসন করতে পারব। সেই ভাবনা থেকেই ওপরের দিকে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এখানেই থিতু হতে চাই।'

সালমানের এই পদোন্নতির কারণে ব্যাটিং পজিশন বদলে যাচ্ছে সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমেরও। অজিদের বিপক্ষে ম্যাচে বাবরকে দেখা গেছে চার নম্বরে, যেখানে ২০ বলে ২৪ রান করেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেওয়া পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২০ ওভারে ১৬৮ রান। ওপেনার সায়েম আইয়ুবের ৪০ রানের সুবাদে এই লড়াকু পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানি স্পিনারদের বিষে নীল হয়ে লক্ষ্য থেকে দূরেই থেমে যায় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস।

ম্যাচের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সালমান বলেন, 'ম্যাচটি দারুণ ছিল। আমরা ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো করলেও শেষটা ঠিক মনের মতো হয়নি। ১০ ওভারের পর উইকেট কিছুটা মন্থর হয়ে যাওয়ায় রান তোলা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবে আমাদের বোলাররা এক কথায় অবিশ্বাস্য পারফর্ম করেছে।'

নিজের বোলারদের ওপর আস্থার কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, 'সত্যি বলতে, ১৭০ রানের লক্ষ্যই জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। যদিও ১০ ওভারের মাথায় মনে হচ্ছিল আরও ১৫ রান বেশি হতে পারত, তবে আমি জানতাম এই পিচে আমাদের স্পিন আক্রমণ সামলে ১৭০ রান তোলা সহজ হবে না।'

হারলেও এখনই খুব একটা দুশ্চিন্তা করছেন না অস্ট্রেলিয়ার ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ট্র্যাভিস হেড। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ শুরুর আগে দলের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

হেড বলেন, 'অবশ্যই কিছু ইতিবাচক দিক আছে, তবে অনেক কিছু নিয়ে কাজ করারও আছে। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আমরা আরও দুটি ম্যাচ পাব। আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে প্রস্তুতি শেষ করতে চাই। আজকের ফলাফল আমাদের পক্ষে না এলেও কিছু কিছু জায়গায় আমরা সত্যিই ভালো করেছি।'