এআই কি সাধারণ পিসিতেও কাজ করবে?

রকিবুল হাসান
রকিবুল হাসান

যেকোনো জিনিসের জন্য বিনিয়োগ করার আগে আমি প্রচুর রিসার্চ করি। তাই বলে আমি ঠিক কৃপণ না। আমার আগের মোবাইল ফোনটার কথাই ধরা যাক। পুরো পাঁচ বছর চালিয়েছি। আমার আসলে খুব হাই-রেজ্যুলেশন দরকার ছিল না। কারণ লো-রেজ্যুলেশনে প্রসেসর ও ব্যাটারি দুটোর ওপরই চাপ কম পড়ে।

সম্প্রতি একটি নতুন ফোন কিনেছি। সেখানেও আমার মাথায় একটাই চিন্তা ছিল, এই বিনিয়োগ থেকে আমার দরকারি কাজটুকু ঠিকঠাক উঠে আসছে তো? দিনশেষে কাজ হওয়াটাই হলো আসল সাফল্য।

এই একই পদ্ধতি প্রয়োগ করি আমার লোকাল ইনফারেন্স বা নিজের পিসিতে এআই চালানোর ক্ষেত্রে। আমাদের অনেকের মাঝে একটা অপ্রত্যাশিত ভয় কাজ করে যে, নিজের ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে এআই বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল চালাতে গেলে লাখ টাকার দামি গ্রাফিক্স কার্ড বা জিপিইউ লাগবে।

আসলে সত্যিটা হলো, আপনার যদি ঘরে থাকা সাধারণ পিসি, যেখানে অন্তত ১৬ জিবি র‍্যাম আছে, সেটা দিয়েই এই রেসে সামিল হতে পারেন। জীবনটা আসলে অনেক সহজ, যদি সঠিক পদ্ধতিটা ধরতে পারেন।

বাংলাদেশে অনেকেরই ডেস্কটপ পিসি আছে। ধরুন আপনার পিসিতে কোনো দামি গ্রাফিক্স কার্ড নেই, শুধু কোর আই-ফাইভ বা রাইজেন-ফাইভ প্রসেসর আছে। আপনি খুব সহজে মেটার ‘লামা-৩’ বা মাইক্রোসফটের ‘ফাই-৩’-এর মতো মডেলগুলো ডাউনলোড করে চালাতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে আমার প্রিয় হচ্ছে আলিবাবা ক্লাউডের কোয়েন-এর মডেল। এই মডেলগুলো এখন এতটাই পাওয়ারফুল যে আপনার ইমেইল ড্রাফট করা থেকে শুরু করে কোডিংয়ের কাজেও দারুণ সাহায্য করবে।

১৬ জিবি র‍্যাম থাকলে এই কাজগুলো পানির মতো সহজ হয়ে যায়। এটা একটা বড় লেসন যে, সবসময় অনেক উন্নত হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হয় না, বরং প্রক্রিয়া জানলে সাধারণ পিসি দিয়েই সাফল্য পাওয়া সম্ভব।

অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, গ্রাফিক্স কার্ড ছাড়া কি আদৌ সম্ভব? এখানে একটা ম্যাজিক আছে, যার নাম ‘কোয়ান্টাইজেশন’। এটা ব্যবহার করে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোকে ছোট সাইজে নিয়ে আসা হয়, যাতে সেগুলো সাধারণ পিসির র‍্যাম ব্যবহার করে চলতে পারে।

যেমন: মিস্ট্রাল মডেলটি। এটি সাধারণ র‍্যাম ব্যবহার করেই খুব সুন্দরভাবে কাজ করে। এর জন্য আলাদা করে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হবে না। জাস্ট ওলামা বা এলএম স্টুডিও-এর মতো কিছু ফ্রি সফটওয়্যার ব্যবহার করলেই সাধারণ পিসিটা সুপার কম্পিউটার হয়ে উঠবে।

আসলে সবকিছুর মূলে হলো সঠিক অটোমেশন আর সিস্টেমের ব্যবহার। বাসার ও অফিসের সব জটিল কাজ এই লোকাল ইনফারেন্স দিয়েই সেরে ফেলি। এতে একদিকে যেমন আমার প্রাইভেসি বজায় থাকে, অন্যদিকে ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করতে হয় না।

যারা ভাবেন এআই চালানো খুব বেশি খরচের ব্যাপার, তাদের জন্য এই তথ্যগুলো বেশ প্রত্যাশিত মনে হতে পারে। অকারণে বড় বিনিয়োগ না করে বরং সঠিক মডেলটা বেছে নেওয়াটাই ভালো।

দিনশেষে স্মার্টলি কাজ করতে পারাটাই আসল কথা। মানুষের কথায় কান না দিয়ে নিজের বুদ্ধিমত্তা ও ওয়ার্ক-ফ্লো-এর ওপর ভরসা রাখুন, জীবন অনেক সহজ হয়ে যাবে।

 

রকিবুল হাসান; টেলিকম, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় মানবিক রাষ্ট্র’ বইয়ের লেখক