বিজয়ীর বাড়িতে মিষ্টি-ফুল নিয়ে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ

নির্বাচনে পরাজিত হয়েও বিজয়ী প্রার্থীর বাড়িতে ফুল ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হয়ে রাজনৈতিক সৌজন্যতার নজির দেখিয়েছেন এক প্রার্থী। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে। এখানে ধানের শীষের প্রার্থী ড. মুহাম্মদ ওসমান ফারুকের কাছে পরাজিত হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. জেহাদ খান।

ফল ঘোষণার পর গতকাল রাতে করিমগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে ওসমান ফারুকের সঙ্গে দেখা করতে যান জেহাদ খান। সেখানে তিনি বিজয়ী প্রার্থীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং মিষ্টিমুখ করান।

এ সময় ওসমান ফারুক তার সংসদীয় আসনকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে জেহাদ খানের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন। অন্যদিকে জেহাদ খানও এলাকার উন্নয়নে দলমত–নির্বিশেষে একসঙ্গে কাজ করার এবং নবনির্বাচিত এমপিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকলেও জনগণের রায় মেনে নেওয়াই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য উল্লেখ করে জেহাদ খান বলেন, ‘আমরা সবাই একই এলাকার মানুষ। উন্নয়নের স্বার্থে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য নবনির্বাচিত প্রার্থীকে সহযোগিতা করব।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিভাজন ভুলে এলাকার উন্নয়নে সবাই মিলে কাজ করার এই অঙ্গীকার ইতিবাচক বার্তা বহন করে। একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় রাজনৈতিক সৌজন্যতার বহিঃপ্রকাশ।

এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা করেন। এতে ড. ওসমান ফারুক ১ লাখ ১২ হাজার ৪৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেহাদ খান পান ১ লাখ ২ হাজার ৪৭৬ ভোট।

ড. ওসমান ফারুকের পৈতৃক নিবাস করিমগঞ্জের গুজাদিয়া ইউনিয়নের বৈরাটিপাড়া গ্রামে। ১৯৪০ সালে জন্ম নেওয়া এই রাজনীতিবিদ ২০০১ সালেও একই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার বাবা ড. মুহাম্মদ ওসমান গনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।