কালো টাকা দিয়ে মানুষের ঈমান খরিদ করতে দেওয়া হবে না: শফিকুর রহমান

নিজস্ব সংবাদদাতা, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ

চোরাই পথে ভোট চুরির সব চেষ্টা প্রতিহত করতে কর্মী-সমর্থকদের মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, এখন থেকে পাহারাদারি শুরু করেন। চোরাই পথে কোনো ভোট চোর যাতে ঢুকতে না পারে। কালো টাকা দিয়ে মানুষের ঈমান যাতে খরিদ করতে না পারে, যাতে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, চোরাই পথে আর কোনো নির্বাচন হবে না। এ ধরনের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবে সুষ্ঠ নির্বাচনে যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে জামায়াত অভিনন্দন জানাতে প্রস্তুত বলে জানান।

জনসভায় তিনি প্রশাসনের প্রতি সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, কোনো দুর্বৃত্ত এখন আর কারও ভোটে হাত দিতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। আমরা প্রশাসনকে বলব, আপনারা দক্ষতা এবং নিরপেক্ষতার সাথে, সততা এবং সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।

গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এটি একটি বৈষম্যমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের ভিত রচনা করে দেবে। নির্বাচিত হলে কাউকে দুর্নীতির পথে যেতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, কোনো মামলা-বাণিজ্য বাংলাদেশে হবে না। বিদেশের সবগুলো বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে আমরা উত্তম সম্পর্ক রক্ষা করে চলব। কিন্তু কাউকেই প্রভু মানব না।

নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, মা-বোনেরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে নিরাপত্তা পাবেন। আমরা সবকিছুর বিনিময়ে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।

জনসভায় শফিকুর রহমান কিশোরগঞ্জের ছয়টি সংসদীয় আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রতীকও তুলে দেন।

'অনেকে এখন আস্তে আস্তে "হ্যাঁ" বলা শুরু করেছেন'

শফিকুর রহমান বলেছেন, 'কেউ কেউ প্রথম দিকে "না" ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন। এখন জনগণের উত্তাল তরঙ্গ দেখে আস্তে আস্তে বলা শুরু করেছেন আমরাও "হ্যাঁ"। একেই বলে ঠেলার নাম বাবাজি।'

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, 'জনগণ পুরোনো ও পচা রাজনীতি আর চায় না। তারা দলীয় সরকার নয়, জনগণের সরকার দেখতে চায়। দীর্ঘ ৭৭ বছরেও বাংলাদেশ একটি সম্মানিত দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। আমাদের পাসপোর্টের মান খুব দুর্বল। এর জন্য দায়ী আমাদের অসৎ রাজনীতি।'

দেশ থেকে অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'চোরেরা দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, যা বাংলাদেশের বাজেটের চার গুণ। আল্লাহ তৌফিক দিলে এদের পেটে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনা হবে। শুধু সম্পদ নয়, এই চোরদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।'

জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দেশে কৃষিবিপ্লব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও জনবল দেওয়া হয়নি। ১৩ তারিখের পর নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু এশিয়ায় নয়, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে নাম উল্লেখ না করে শফিকুর রহমান বলেন, 'ক্ষমতায় গেলে তারা বাংলাদেশকে কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলবে। মা-বোনদের ইজ্জতের ধার ধারবে না। তাদের নেতা এখন হুংকার দিয়ে হিজাব খুলে ফেলার কথা বলছেন। আমি প্রতিবাদ করায় তারা আমার পেছনে লেগেছে। তবে আমি এসব পরোয়া করি না। জীবন দেব, তবুও মায়ের সম্মানে কাউকে দাগ দিতে দেব না।'

ফ্যামিলি কার্ড ও ফারমার্স কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, 'কেউ কেউ হাতে কার্ড নিয়ে বের হয়েছে। নাম ফ্যামিলি কার্ড। কৃষকদের ধোঁকা দিতে বলছে ফারমার্স কার্ডের কথা। তাদের শাসনামলে কৃষকরা সার চেয়ে গুলি পেয়েছিল। জনগণ সবাইকে চেনে।'

শফিকুর রহমান ঘোষণা দেন, দেশের উন্নয়নে নারীরা সমান অংশীদার হবেন এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সব বিভাগীয় শহরকে স্মার্ট নগরীতে রূপান্তর করা হবে এবং সেখানে ব্যবসা করতে কোনো চাঁদা দিতে হবে না।

ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কামরুল হাসান এমরুলের সভাপতিত্বে জনসভায় ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।