নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিই লক্ষ্য নূরুন নাহার বেগমের

মো. কামরুল ইসলাম রুবাইয়াত
মো. কামরুল ইসলাম রুবাইয়াত

বেলা গড়িয়ে তখন বিকেল প্রায় তিনটা। গ্রামীণ মেঠো পথ ধরে এগিয়ে চলেছে দুটি জিপ গাড়ি। সামনে কিছু মানুষের জটলা দেখে একজন ষাটোর্ধ্ব নারী নেমে তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করলেন, হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করলেন। নারীদের কাউকে কাউকে জড়িয়ে ধরতেও দেখা গেল। এসবের মাঝেই তাদের হাতে তুলে দিলেন লাঙ্গল মার্কার হ্যান্ডবিল।

তিনি নূরুন নাহার বেগম, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

গত শুক্রবার বিকেলে উত্তর বালিয়াডাঙ্গী, ফুলতলা, মহাজনহাট, ডাঙ্গী বাজার, হরিপুর কাঁটাবাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে গণসংযোগে অংশ নেন তিনি। ভোট চাওয়ার পাশাপাশি তিনি এলাকাবাসীকে তার পক্ষে কাজ করার অনুরোধ জানান।

এর আগে ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বড়বাড়ি ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াডাঙ্গী গ্রামে তিনি প্রায় সবার কাছেই পরিচিত।

গণসংযোগ শেষে উপজেলার আধারদিঘী হাটে এক নির্বাচনী সভায় যোগ দেন নূরুন নাহার বেগম। সেখানে স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি তার ছেলে ব্যারিস্টার আরিফ হাসানও বক্তব্য দেন এবং লাঙ্গল মার্কায় ভোট চান।

সভায় নূরুন নাহার বেগম সাবেক চেয়ারম্যানের মেয়ে এবং এলাকার মেয়ে হিসেবে ভোট চান। তিনি বলেন, দ্বাদশ সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও সংসদের স্থায়িত্ব কম হওয়ায় সেভাবে কাজ করতে পারেননি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'আমার কোনো অভাব নেই, কোনো চাওয়া নেই। আমার এক ছেলে ও এক মেয়ে ব্যারিস্টার এবং অন্য এক ছেলে ও এক মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার। আমার প্রকৌশলী স্বামী চাকরি শেষে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করে সফল হয়েছেন।'

নূরুন নাহার বলেন, তার রাজনীতির প্রধান উদ্দেশ্য এলাকার মানুষের জন্য কাজ করা। নির্বাচিত হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, গার্মেন্টসসহ শিল্পকারখানা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বেকারদের কর্মসংস্থান, কুটিরশিল্পের বিকাশ এবং বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ নারী জনগোষ্ঠী গড়ে তুলে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করবেন। এ ছাড়া নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পারিবারিক সহিংসতা রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

সভা শেষে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, 'জনসাধারণ, বিশেষ করে নারীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া মিলছে। বাবা রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ছোটবেলা থেকেই জনগণের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। বাবা বলতেন এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে আসতে। আমার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই, তাই জনসেবার লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতিতে আসা।'

তবে বড়বাড়ি বেলহারা গ্রামের গোলাম মোস্তফা বলেন, 'আজই প্রথম জনসংযোগ করতে তাকে দেখা গেল। এলাকায় তার পরিচিতি থাকলেও জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক অবস্থা আগের মতো নেই। ফলে কর্মী সংকটে পড়তে হবে। এত বড় নির্বাচন সামলানো তার পক্ষে কঠিন হবে মনে হয়।'

নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, নূরুন নাহার বেগম গৃহিণী এবং কুটিরশিল্পের সঙ্গে জড়িত। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে কৃষি থেকে ৫০ হাজার, বাড়ি ও অন্যান্য স্থাবর সম্পত্তি থেকে ৯২ হাজার ৪০০ এবং ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা আয় করেন। তার নিজের একটি মোটরসাইকেল আছে, যার মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁও-২ আসনে অন্যান্যের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির ডা. আব্দুস সালাম, ১১ দলের আব্দুল হাকিম, গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হোসেন, এবি পার্টির নাহিদ রানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল করিম এবং কমিউনিস্ট পার্টির সাহাব উদ্দীন আহাম্মেদ।