সংকটে সঙ্গী সাইকেল, কেনার আগে যা জানা জরুরি
যাতায়াতের জন্য দুর্দান্ত বাহন বাইসাইকেল। সম্ভবত গত এক বছরে বাংলাদেশের মানুষে এই ব্যাপারটা আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছে। তারা প্রাত্যহিক জীবনে বাইসাইকেলকে কাজে লাগিয়েছে। কয়েক মাস ধরে বাস, ক্যাম্পাস, চা-দোকান থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্টে বাইসাইকেল নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ সাইকেল চালাতে কোনো জ্বালানি লাগে না। আবার এটি পরিবেশবান্ধব।
আমাদের এখানে একটা মজার ব্যাপার দেখা যায়। তা হলো, বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন ‘বাইক’ মানে মোটরসাইকেল। কিন্তু বাইক আসলে প্যাডেলচালিত যান।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর অনেকের মধ্যে বাইসাইকেল কেনার আগ্রহ বেড়েছে। কারণ জ্বালানি নিয়ে ভোগান্তি। কিন্তু সাইকেল কেনার আগে একটু ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এখন আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে। সাইকেলের অনেক ব্রান্ড আছে, দোকান আছে। তাছাড়া একটু ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত না নিলে কেনার পর অনুশোচনা হতে পারে। তাই বলব, তাড়াহুড়ো করা একেবারেই ঠিক হবে না।
শুরুতে ভাবতে হবে বাজেট নিয়ে। দেখা যায়, কেনার সময়ে কখনো কখনো বাজেটের চেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয়। আবার কখনো বাজেটের চেয়ে কমেও কেনা সম্ভব হয়। এটা অনেকটা নির্ভর করে পছন্দের ওপর। এজন্যই একটু সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বুদ্ধিমানের পরিচয় হবে। কারণটাও সহজ, বাইসাইকেল কেনা মানে বিনিয়োগ করা। আবার এর সঙ্গে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার দিক জড়িয়ে থাকে। তাই একটি ভালো বাইসাইকেল যেমন জীবন সহজ করে দিতে পারে, তেমনিভাবে একটি খারাপ বা সমস্যাযুক্ত সাইকেল বাড়তি ঝামেলা তৈরি করতে পারে।
বারবার ভাবা
বাইক বা বাইসাইকেল কেনার আগে ভাবুন কোন ধরনের সাইকেল নেবেন। সবাই সাধারণত এমটিবি বা মাউন্টেন বাইক পছন্দ করেন। কারণ এতে সাসপেনশন থাকে, যা গর্ত ও উঁচুনিচু রাস্তা পার হতে সাহায্য করে। তবে ডাবল সাসপেনশন বাইক না নেওয়াই ভালো। এগুলো দেখতে ভালো ও আরামদায়ক মনে হলেও ভারী হয়, তাই প্যাডেল করতেও কষ্ট হয়। সবচেয়ে ভালো হলো হার্ডটেইল বাইক নেওয়া, এগুলোর কেবল সামনের চাকার জন্য সাসপেনশন থাকে।
আরেকটি বিকল্প হতে পারে রোড বাইক বা ‘রেসিং বাইক’। এগুলোর চাকা পাতলা ও বড়, তাই দ্রুত চলে। কিন্তু এতে সাসপেনশন থাকে না। রাস্তা যদি মসৃণ না হয় চালাতে কষ্ট হয়। রোড বাইকের একটি ধরন হলো ফিক্সি (ফিক্সড-গিয়ার), এ কারণে চালাতে অভ্যস্ত হতে সময় লাগে। যারা মাত্র সাইকেল চালানো শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের রোড বাইকে না নেওয়াই ভালো।
এরপর আসে ফ্রেমের প্রসঙ্গ। যদি ১৫ হাজার বা তার বেশি খরচ করার ইচ্ছে থাকে তাহলে অ্যালুমিনিয়াম-এলয় ফ্রেম নিতে পারেন। আর বাজেট ১০ হজারের নিচে হলে স্টিল ফ্রেম নিতে হবে। স্টিল ভারী হলেও এগুলো শক্ত এবং টেকসই, সুতরাং মন খারাপ করার কারণ নেই।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফ্রেমের সাইজ। উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে সঠিক সাইজ বেছে নিতে হবে। আর উচ্চতা অনুযায়ী সঠিক সাইজ না নিলে অনেক সমস্যার মুখে পড়তে হবে। এজন্য গুগলের সাহায্য নিতে পারেন। গুগলে গিয়ে সার্চ করুন ‘Mountain bike frame size calculator’ এবং এরপর উচ্চতা দিন। ক্যালকুলেটর লেগ লেন্থ ও ক্র্যাঙ্ক দেখাতে পারে, কিন্তু এগুলো নিয়ে বেশি চিন্তা করার দরকার নেই।
এবার সাইকেল খুঁজতে শুরু করুন। এখনতো প্রায় সবই দোকানের ফেসবুক পেজ আছে। তাদের পেজে গিয়ে অ্যালবাম দেখুন এবং সঠিক মাপ খুঁজুন। সেখান নিজের বাজেট অনুযায়ী, কয়েকটি সাইকেল বাছাই করতে পারেন। এরপর যারা এ বিষয়ে ভালো জানেন তাদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। ভালো সহায়তা পেতে পারেন BDCyclists থেকে, তাদের পোর্টাল bdcyclists.com। সেখানে গিয়ে আপনার প্রশ্ন ও উত্তর পেয়ে যেতে পারেন, কারণ আপনার আগেই হয়তো অনেকে এসব জানতে চেয়েছিলেন।
মোটকথা সাইকেল কেনার জন্য বেশি গবেষণার দরকার নেই। আগে থেকে সাইকেলের মডেল পছন্দ থাকলে দোকানে গিয়ে যাচাই করে নিন। ভুলে যাবেন না ফেসবুক বা ইন্টারনেটে ছবি দেখে সবকিছু সঠিকভাবে জানা যায় না।
সত্যিই যদি সাইকেল কেনার ইচ্ছে থাকে তাহলে সরাসরি দোকানে চলে যান। দরকার কেবল কিছু মৌলিক তথ্য মাথায় রাখা।
ফাহমিম ফেরদৌস, BDCyclists-এর সদস্য, বর্তমানে কিবোর্ড-সাইক্লিস্ট।



