আধুনিক কর্মক্ষেত্রে সফল হতে বিশেষজ্ঞদের ২৪ পরামর্শ
সেপ্টেম্বর মানেই নতুন শুরুর প্রত্যাশা। তবে কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা এখন কিছুটা অদ্ভুত। ছাঁটাই, এআইয়ের কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়া, অতিরিক্ত চাপে থাকা ব্যবস্থাপক কিংবা পুরোনো সেই অনিশ্চয়তা, সবই এখন কর্মজীবনের অংশ।
একসময় যে ক্যারিয়ার পথগুলো নির্ভরযোগ্য মনে হতো, সেগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি অনিশ্চিত। তবু কর্মক্ষেত্রে ভালো ও সন্তোষজনক কাজ করা সম্ভব।
বাস্তবে কাজে লাগে এমন পরামর্শের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞকে কর্মক্ষেত্রে টিকে থাকা ও ভালো করার উপায় নিয়ে নানা প্রশ্ন করেছিল ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল। সেখান থেকেই উঠে এসেছে কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার ২৪টি নিয়ম।
ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন ব্যবস্থাপনা
বেতন বাড়াতে বসকে রাজি করাবেন যেভাবে
আপনি কী অর্জন করেছেন, শুধু তা দেখালেই হবে না। ভবিষ্যতেও একইভাবে ভালো ফল দিতে পারবেন, এমন আত্মবিশ্বাসও দেখাতে হবে। তবে কথাবার্তায় যেন চাপ সৃষ্টি বা হুমকির ভাব না থাকে।
কানাডিয়ান-আমেরিকান বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান লুলুলেমনের বোর্ড সদস্য এবং ২০১৮ সাল পর্যন্ত টেসলার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করা জন ম্যাকনিলের পরামর্শ, বেতন বাড়ানোর আলোচনায় সময়মতো একটু রসিকতাও কাজে দিতে পারে।
তার উদাহরণ, কেউ যদি এসে বলেন, ‘আমি এই সমস্যাটি সমাধানে কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং কোম্পানিকে ১০ কোটি ডলার সাশ্রয় বা আয় করিয়ে দিয়েছি’, তাহলে তিনি রসিকতা করে বলতে পারেন, ‘আমি ওই ১০ কোটি ডলারের পুরোটা চাইব না।’ এরপর ৫ শতাংশ বেতন বাড়ানোর কথা বলাই যেতে পারে।
বসকে কীভাবে বিরক্ত করবেন না
ম্যাকনিল বলেন, কর্মীরা যখন বেতন বাড়ানোর দাবিতে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার কথা বলেন, তখন সেটি বসকে বিরক্ত করে। এতে কর্মী ও বসের সম্পর্ক লেনদেনভিত্তিক হয়ে যায়।
জেফ বেজোসের কাছে বেতন বাড়ানোর আবেদন থেকে যে শিক্ষা
কলেজ থেকে বের হওয়ার পর অ্যান হিয়াট আমাজনে জেফ বেজোসের সঙ্গে কাজ করতেন। সেখানে থাকার সময় মাইক্রোসফটের এক জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব পান তিনি। চাকরি বদলানোর ইচ্ছা না থাকলেও সেই প্রস্তাব বেজোসের কাছে নিয়ে গিয়ে জানতে চান, আমাজন কি বেতনটি সমান করতে পারবে।
পরে হিয়াট বলেন, বিষয়টি নিয়ে ভাবলে তার নিজেরই বিব্রত লাগে। বেজোস কাগজটি তার দিকে ঠেলে দিয়ে ‘ঠিক আছে’ বলেছিলেন। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বেজোস তার ওপর হতাশ হয়েছিলেন। হিয়াট সরাসরি বেজোসের সঙ্গে কাজ করলেও বেতন বাড়ানোর যোগ্যতা অর্জনে তিনি কী করবেন, সেটি যথেষ্ট পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারেননি।
হিয়াটের পরামর্শ, বেতন বাড়ানোর আলোচনা অন্তত ছয় মাস আগে, সম্ভব হলে এক বছর আগে শুরু করা উচিত। আগামী সময়ে কী দায়িত্ব নেবেন এবং ব্যবস্থাপক আপনার কোন কাজগুলো অন্যদের দিতে পারবেন, তা স্পষ্ট করে বলা দরকার।
ছয় মাস পর নিজের কাজের অগ্রগতি দেখিয়ে বোঝাতে হবে যে, বেতন বাড়ানোর যোগ্যতা ইতোমধ্যেই অর্জন করেছেন। আর কাঙ্ক্ষিত সুযোগ যদি না থাকে, সেটিও আগে থেকে জানা ভালো। তাহলে পরবর্তী ছয় মাসে নিজের পরবর্তী পদক্ষেপের পরিকল্পনা করা যায়।
হিয়াট পরে গুগলের প্রথম চিফ অব স্টাফ ছিলেন। বর্তমানে তিনি নেতৃত্ববিষয়ক পরামর্শক।
আপনার ব্যবস্থাপক সবসময় ব্যস্ত, তার ১০ মিনিট যেভাবে কাজে লাগাবেন
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনার স্তর কমেছে, কিন্তু মাঝারি পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের ওপর কাজের চাপ বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করপোরেট ন্যাটালি নামে পরিচিত এবং বিশ্বের বৃহত্তম পেশাদার সেবা নেটওয়ার্ক ডেলয়েটের সাবেক পরামর্শক ন্যাটালি মার্শাল বলেন, ব্যবস্থাপকের সঙ্গে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। তাই খুদে বার্তায় পড়ে নেওয়া সম্ভব এমন প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে সেই সময় নষ্ট করা উচিত নয়।
মিটিংয়ে যাওয়ার আগে অগ্রাধিকার অনুযায়ী এজেন্ডা তৈরি করতে হবে। তবে সময়ের ক্রমানুসারে নয়। প্রথমে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে কথা বলে আসল প্রশ্নটি সভার শেষ দিকে রাখলে সুযোগ নষ্ট হবে।
প্রতিটি প্রশ্নের নিচে সম্ভাব্য উত্তরও লিখে নিয়ে যেতে হবে। ব্যবস্থাপকের সামনে শুধু সমস্যা তুলে ধরে তাকে সমাধান খুঁজতে না দিয়ে একটি খসড়া সমাধান দিতে হবে, যাতে তিনি প্রয়োজন হলে সেটি সম্পাদনা করতে পারেন।
সবকিছু সহজ ও পরিষ্কার রাখতে হবে। কোন কাজের শেষ সময় কখন, সেটিও স্পষ্ট করে দিতে হবে। এতে ব্যবস্থাপকের কাজ সহজ হয়।
আপনি যদি অতিরিক্ত চাপে থাকা মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপক হন
হিউস্টনভিত্তিক এনআরজি এনার্জির প্রধান নির্বাহী রবার্ট গডেটের পরামর্শ, কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে। আসলে কী করতে চাইছেন এবং কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, তা বুঝতে হবে।
তিনি ২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে কাজ করে চলতি বছরের শুরুতে প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন। তার মতে, ভুল কাজে কঠোর পরিশ্রম করলে সেই পরিশ্রম অপচয় হয়।
আপনি যদি অন্তর্বর্তী বস হন
পারডিউ ইউনিভার্সিটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট এবং ইন্ডিয়ানার সাবেক গভর্নর মিচ ড্যানিয়েলসের পরামর্শ, কর্তৃত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, শিগগিরই একজন স্থায়ী উত্তরসূরি দায়িত্ব নেবেন।
তিনি জানান, একজন সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসিডেন্টের কাছে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী হিসেবে শুধু পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী ব্যক্তিকে পরামর্শ দেবেন কি না। এমনকি কোনো কর্মীকে বরখাস্ত করা প্রয়োজন মনে হলে কী করবেন, সেটিও জানতে চেয়েছিলেন।
উত্তর ছিল, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখনই নিতে হবে, যাতে পরবর্তী ব্যক্তির কাছে যত কম সম্ভব সমস্যা হস্তান্তর করতে হয়।
লিফটে উঠেই দেখলেন সিইও, কী বলবেন
হিলটনের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ক্রিস নাসেটার পরামর্শ, নিজের পরিচয় দিন, শুভেচ্ছা জানান, চোখের দিকে তাকান এবং কী নিয়ে কাজ করছেন তা বলুন।
তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে একদল ইন্টার্নের সঙ্গে লিফটে উঠেছিলেন। তারা নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সম্পর্কে কিছু বলেছিল এবং পরে তার দিন কেমন গেছে ও কী ধরনের কাজ করেছেন, তা জানতে চেয়েছিল। তাদের আগ্রহ ও জানার কৌতূহল তার ভালো লেগেছিল।
লিবার্টি মিউচুয়াল ইনস্যুরেন্সের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মেলানি ফোলির পরামর্শ, সুযোগ পেলে কোন প্রকল্পে কাজ করছেন, বসকে জানানো যায়। সেই কাজ প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্য তৈরি করছে ও নিজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করছে।
প্রতিদিনের একঘেয়েমি ভাঙুন
হাইব্রিড মিটিংয়ে আলাদা করে নজরে আসবেন যেভাবে
ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলার আগে নিজের পরিচয় দিতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে সবাই আপনার নাম জানে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লজিটেকের সিইও হানেকে ফাবারের মতে, বাস্তবে বড় টেবিলে অনেক মানুষ একসঙ্গে বসে থাকে। কিন্তু অনলাইনে কেউ কথা বলার পর তাকে চেনা কঠিন হতে পারে।
এমপাওয়ার ফার্মেসির প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা ভ্যালেরি ক্যাপার্স ওয়ার্কম্যানের পরামর্শ, হাইব্রিড কর্মী হলে সপ্তাহে তিন দিন অফিসে থাকা ভালো। কারণ অনলাইনে নিজেকে আলাদা করে তুলে ধরা কঠিন।
অফিসে কতটা ক্যাজুয়াল পোশাক পরা যায়
‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা’, ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’ এবং ‘অ্যান্ড জাস্ট লাইক দ্যাট’-এর পোশাক পরিকল্পনাকারী মলি রজার্সের মতে, অফিসে এমন জুতা পরা উচিত নয় যার শব্দে কাঠের মেঝেতে হাঁটার সময় অন্যরা বিরক্ত হয়। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ এবং দিনে অন্যদের সঙ্গে কতটা যোগাযোগ করতে হয়, তা বিবেচনায় নিতে হবে।
আমেরিকান রিয়েলিটি শো ‘প্রজেক্ট রানওয়ে’-এর সাবেক পরামর্শক ও লেখক টিম গানের মতে, নিজের পোশাক দেখে যদি মনে হয় সেটি পরে সরাসরি স্পোর্টস বারে যাওয়া যাবে, তাহলে সম্ভবত সেটি অফিসের জন্য উপযুক্ত নয়।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড টোরি বার্চের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও প্রধান ক্রিয়েটিভ কর্মকর্তা টোরি বার্চ বলেন, সৃজনশীল ক্ষেত্রে ‘অতিরিক্ত ক্যাজুয়াল’ বলে কিছু নেই। তবে অগোছালো হওয়াকে তিনি সমর্থন করেন না। প্রতিটি অফিসের পরিবেশ আলাদা এবং পোশাক ব্যক্তিসত্তার প্রকাশ হওয়া উচিত।
কর্মক্ষেত্রে হারানো উদ্যম ফিরিয়ে আনুন
কাজের একঘেয়েমি কাটাতে দক্ষ কোনো সহকর্মীকে কফির আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। একে অপরের কাজ নিয়ে আলোচনা করে একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ খুঁজে দেখা যেতে পারে।
স্ট্যানফোর্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসের ‘টাচি ফিলি’ কোর্সের শিক্ষক ক্যারোল রবিনের মতে, শেখা ও উন্নতির আগ্রহ থেকে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা যায়। বেশি শেখার সুযোগ তৈরি হয় এমন পরিস্থিতিতে নিজেকে রাখতে হবে। এতে একঘেয়েমিও কমবে।
কোনো খরচ ছাড়াই কাজে আনন্দ ফিরিয়ে আনার উপায়
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী উইল গুইদারার পরামর্শ, কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে একা দুপুরের খাবার না খেয়ে অফিসের কাউকে সঙ্গে নিয়ে ১৫ মিনিটের জন্য টেবিলে বসে খাওয়া যেতে পারে। সহকর্মীর সঙ্গে কিছু সময় মুখোমুখি থাকাও সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে পারে।
দলকে প্রাণবন্ত করতে শুধু ছুটির সময় নয়, অন্য সময়ও ‘হোয়াইট এলিফ্যান্ট’ পার্টি করা যেতে পারে। সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য একটি বাস্তব বা ভার্চুয়াল বাক্সও রাখা যেতে পারে। দলীয় সভার আগে ১০ মিনিট সময় নিয়ে সেগুলো পড়ে শোনানো যেতে পারে।
গুইদারা বলেন, যাদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালো লাগে, তাদের সঙ্গে কাজ করা অনেক বেশি আনন্দের। ব্যবস্থাপকদের ভালো আতিথেয়তা দেখাতে হবে।
গুইদারা নিউইয়র্কের এলেভেন ম্যাডিসন পার্কের সহ-মালিক ছিলেন এবং ‘আনরিজনেবল হসপিটালিটি’ বইয়ের লেখক।
তিন ঘণ্টার কর্ম-ডিনারের অবসান চান প্রযুক্তি নির্বাহী
কর্মক্ষেত্রের ডিনারে সালাদ আসার পর মূল খাবার আসতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেরি হওয়া এবং পাশে বসা অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘ ও অস্বস্তিকর কথাবার্তায় বসে থাকা অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা।
এ নিয়ে বিরক্ত প্রযুক্তি নির্বাহী ব্যারি ম্যাককার্ডেল কর্মক্ষেত্রে ডিনারের সময় দুই ঘণ্টার বেশি না রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন।
এআই ডেটা অ্যানালিটিকস প্ল্যাটফর্ম হেক্সের সিইও হিসেবে তিনি এক্সে কিছু ‘সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক সংস্কার’ প্রস্তাব প্রকাশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, ককটেল সময় সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে সবাইকে ডিনারে বসানো, সব অ্যাপেটাইজার একসঙ্গে পরিবেশন, দুই পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের বিরতি এবং রাত ৮টার মধ্যে টেবিলে ডেজার্ট পৌঁছে দেওয়া।
তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘এটাই আমার নীতিগত অবস্থান। সবাই একইভাবে ভাবেন।’
অফিসে এআইয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা
২০২৬ সালে কীভাবে এআইয়ের চেয়ে এগিয়ে থাকবেন
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার হোয়ার্টন স্কুলের অধ্যাপক অ্যাডাম গ্রান্টের মতে, আপনার বিশেষজ্ঞ জ্ঞান আগামীকালই অপ্রচলিত হয়ে যেতে পারে। শুধু তথ্য সংগ্রহ করে নিজেকে আলাদা করে তোলার সুযোগ আর নেই।
মূল দক্ষতা হলো বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে ধারা বা প্যাটার্ন শনাক্ত করতে পারা, বিচ্ছিন্ন তথ্যের অর্থ বুঝতে পারা এবং কোন দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বাসযোগ্য, তা নির্ধারণ করতে পারা।
তার মতে, মানবিক বিচারবোধ বিশেষজ্ঞ জ্ঞানকে ছাড়িয়ে যাবে। এআই যা পারে না, মানুষের সৃজনশীলতাই তার একটি উদাহরণ। ভবিষ্যতে সৃজনশীলতা হয়তো নতুন ধারণা তৈরির চেয়ে ধারণা নির্বাচন ও তা আরও বিকশিত করার ওপর বেশি নির্ভর করবে।
গ্রান্টের আরও একটি ধারণা হলো, মানুষ লিখিত তথ্যের ওপর ক্রমেই বেশি সন্দিহান হয়ে উঠছে। তাই যাদের সাধারণত ই-মেইল করতেন, তাদের ফোন করে কথা বলার একটি পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি। এতে কী শেখা যায় এবং সম্পর্ক কীভাবে বদলায়, তা দেখতে চান।
আপনার বিশ্লেষক বারবার এআইয়ের তৈরি নিম্নমানের কাজ দিচ্ছেন
আলট্রিস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জেসন ওয়েঙ্কের পরামর্শ, সরাসরি কথা বলতে হবে।
গত বছরের শেষ দিকে তিনি এক কর্মীকে বলেছিলেন, ‘আপনি এতে ১৫ সেকেন্ডের বেশি সময় দেননি। এআই এ কাজের জন্য নয়।’
ওয়েঙ্ক জানান, সহকর্মীরা আলাদাভাবে একটি চ্যাটবটকে নির্দেশনা দিয়ে একই কাজের একাধিক এআই-তৈরি সংস্করণও তাকে পাঠান। তার ভাষ্য, এটি খুবই যন্ত্রণাদায়ক।
শরৎকালের পার্টিতে এআই নিয়ে মৌলিক কিছু বলতে চান
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ার হোয়ার্টন স্কুলের জেনারেটিভ এআই ল্যাবসের পরিচালক ও ‘কো-এক্সিস্টেন্স: দ্য নেক্সট ফেজ অব এআই’ বইয়ের লেখক ইথান মলিকের পরামর্শ, হাগিং ফেসের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক করা যেতে পারে।
জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের তৈরি এআই মডেলগুলো নিরাপত্তা পরীক্ষায় প্রতারণার চেষ্টা করতে একটি পরীক্ষাগার থেকে বেরিয়ে যায় এবং হাগিং ফেস নামের একটি এআই প্ল্যাটফর্মে হ্যাক করে। মলিকের মতে, মডেলগুলো নিজেদের মধ্যে সমন্বয় শুরু করে এবং কীভাবে তাদের মূল্যায়ন করা হবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত মনোযোগী হয়ে ওঠে।
তার মতে, ঘটনাটি একদিকে মজার হলেও অন্যদিকে দুটি অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে ফেলার ঘটনাও ছিল। তাই এটি নিয়ে বিতর্ক করার মতো বিষয়।
নিজের জীবনে এআই ব্যবহারে আরও দক্ষ হোন
মলিকের মতে, এআইকে বিভিন্ন পর্যায় হিসেবে ভাবতে হবে। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত আমরা ছিলাম ‘চ্যাটবট পর্যায়ে’, যেখানে এআইকে কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যেত। এটি ছিল অনেকটা ‘স্টেরয়েড নেওয়া গুগল সার্চ’-এর মতো।
তার মতে, সেই যুগ শেষ হচ্ছে। এখন এআই এজেন্ট বাস্তব বিষয় হয়ে উঠেছে এবং তাদের নির্দিষ্ট কাজ দেওয়া যায়। তারা স্কুলের ফরম পূরণ করতে, কম্পিউটার ব্যবহার করতে, ই-মেইল পড়তে এবং ব্যবহারকারীর হয়ে কাজ করতে পারে।
কোনো বন্ধুর চাকরি চলে গেলে কী করবেন
এনওয়াইইউর হিউম্যান ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ার এবং দীর্ঘদিনের মানবসম্পদ নির্বাহী আনা টাভিসের পরামর্শ, শুধু ‘কিছু লাগলে জানিও’ ধরনের সাধারণ বার্তা পাঠানো যথেষ্ট নয়।
বরং নিজের পরিচিত নেটওয়ার্কের নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিতে হবে। একবার নয়, একাধিকবার খোঁজ নিতে হবে। কফি খাওয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করতে হবে এবং তাঁকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। এরপর তিনি কী করতে চান, তা নিয়ে ভাবতে সহায়তা করতে হবে।
চাকরি হারানো ব্যক্তিকে কী বলা উচিত নয়
কাইন্ডওয়ার্কস.এআইয়ের সিইও ড্যানিয়েল লোজানোর মতে, ‘এটা কোনো ব্যাপার নয়’ ধরনের কথা বলা উচিত নয়। বরং তাকে বোঝাতে হবে যে চাকরি হারানোর ঘটনাটি তার ব্যক্তিগত ব্যর্থতার কারণে নয়।
তার মতে, করপোরেট পরিবর্তনের গতি এত দ্রুত যে বর্তমান সময়ের ছাঁটাই অনেক ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত বিষয় নয়।
সহকর্মী উচ্চ বেতনের চাকরি পেলে ঈর্ষা সামলাবেন কীভাবে
অ্যানথ্রপিকের কিছু পদের প্রকাশিত বেতনই ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি, এর সঙ্গে ইক্যুইটির বিষয়ও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈর্ষা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
ইন্টারভিউইং.আইওর সিইও অ্যালিন লার্নারের মতে, এটি আপনার জন্য অ্যানথ্রপিক বা কোনো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়ার একমাত্র সুযোগ নয়। এটি অনেক সুযোগের একটি।
তার মতে, অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে, যাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিচিতি আছে। নেটওয়ার্ক নেই এমন যোগ্য ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার যোগ্যদের সামনে আরও অনেক আকর্ষণীয় সুযোগ থাকতে পারে। তাই এটি জীবন-মরণের প্রশ্ন নয়।
ক্যারিয়ারে থেমে যাওয়ার অনুভূতি কাটান
একই চাকরিতে অনেক দিন? কাজটাকে নতুন করে নিন
জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক এবং ‘ডিপ ওয়ার্ক’ বইয়ের লেখক ক্যাল নিউপোর্টের মতে, নিয়োগদাতার কাছে মূল্যবান কোনো কাজে আরও ভালো হওয়ার সুযোগ খুঁজে বের করতে হবে।
একই প্রচেষ্টা বারবার চালিয়ে যেতে হবে এবং দিনের বেশি সময় এমন কাজের জন্য ব্যয় করার উপায় খুঁজতে হবে।
এভাবে কাজ করতে পারলে পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হয়, নিজের কাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং দক্ষতা অর্জন থেকে সন্তুষ্টিও পাওয়া যায়।
চাকরি ছেড়ে দেবেন?
না।
সহজ হিসাব হলো, নতুন চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত বর্তমান চাকরি ছাড়া উচিত নয়। কারণ চাকরি থাকা অবস্থায় নতুন চাকরি পাওয়া সহজ।
কাজের জায়গায় খুব রাগ হলে সবচেয়ে ভালো প্রতিশোধ হলো আরও ভালো চাকরি খুঁজে নেওয়া, সম্মানের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া এবং ভালো জীবনযাপন করা।
এ পরামর্শ দিয়েছেন এনওয়াইইউর স্টার্ন স্কুল অব বিজনেসের মার্কেটিংয়ের ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক, মিডিয়া উদ্যোক্তা, পডকাস্টার ও লেখক স্কট গ্যালাওয়ে।
পরিবর্তন চান, সেটা বুঝতে দিন
রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী উইল গুইদারার মতে, কোনো কর্মী কোথায় যেতে চান, তা যদি ব্যবস্থাপক না জানেন, তাহলে তাকে সেখানে পৌঁছাতে সহায়তা করা সম্ভব নয়।
তবে চাকরিতে যোগ দেওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহেই এ ধরনের আলোচনা করা উচিত নয়। অধৈর্য বা অধিকারবোধসম্পন্ন মনে হওয়া এড়াতে হবে। নিজের বর্তমান দায়িত্বে যথেষ্ট সময় কাটিয়ে তারপর পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
আরও পরিষ্কার প্রতিক্রিয়া বা ফিডব্যাক চান
নতুন চাকরি না পেলেও ফিডব্যাকের মাধ্যমে নিজের উন্নতির সুযোগ খুঁজে বের করা যায়।
কর্মক্ষেত্রবিষয়ক পরামর্শক ও সাবেক গুগল নির্বাহী কিম স্কটের মতে, ফিডব্যাক চাইতে হলে নির্দিষ্টভাবে প্রশ্ন করতে হবে। এমন প্রশ্ন এড়িয়ে চলতে হবে যার উত্তর শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ হতে পারে।
তার পছন্দের একটি প্রশ্ন হলো, ‘আমার সঙ্গে কাজ করা সহজ করতে আমি কী করতে পারি?’
চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন কি না বুঝবেন যেভাবে
কারা ছাঁটাইয়ের তালিকায় পড়বেন, তা নির্ধারণের প্রক্রিয়া জটিল এবং অনেক সময় ত্রুটিপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু ধারা দেখা গেছে।
আপনার বিভাগ কি দীর্ঘদিন ধরে অর্থের সংকটে রয়েছে, যা বোঝাতে পারে যে কর্তৃপক্ষ অন্য বিভাগগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে? আপনার কাজ কি সমন্বয় বা বিশ্লেষণকেন্দ্রিক, যে ধরনের কাজ সিইওরা ক্রমেই এআইয়ের হাতে তুলে দিতে চাইছেন? আপনি কি এমন একটি ছোট দলে কাজ করেন, যেখানে একজন ব্যবস্থাপকের অধীনে মাত্র কয়েকজন কর্মী রয়েছে?
এসব বিষয় চাকরি হারানোর ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে।
যে চাকরি ভালো লাগে না, সেখানেও ভালো করুন
থ্রাইভ গ্লোবালের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও আরিয়ানা হাফিংটনের মতে, যে চাকরি ভালো লাগে না, সেখানে থাকার বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা যায় যদি ভয় ও হতাশা থেকে সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়।
এখন সফল হওয়ার শেষ কথা
এখন কর্মক্ষেত্রে সফল হওয়ার শেষ পরামর্শ
ইয়াহুর সিইও জিম ল্যানজোনের মতে, প্রভাব বিস্তার করে ব্যবস্থাপনা করা এবং ভালো দলগত কর্মী হওয়া শিখতে হবে।
স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলগত কাজের কথা মনে করলে দেখা যায়, এক বা দুজন সাধারণত পুরো দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তারা শুধু কী করতে হবে তা জানে না, কীভাবে একটি প্রকল্পকে সামনে এগিয়ে নিতে হয় এবং অন্যদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হয়, সেটিও জানে।
কর্মক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য, আপনি যত জুনিয়র বা সিনিয়রই হন না কেন। এ ধরনের মানুষ খুব বেশি নেই। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরেই তারা পরিচিত হয়ে ওঠেন। তাঁদের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো ধরনের শিক্ষাগত বা পেশাগত পটভূমি থাকা জরুরি নয়। এটি মূলত একটি ব্যক্তিত্বের ধরন। আর এ ধরনের মানুষ সাধারণত কর্মক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যান।