জবি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ১০
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা করে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে সেখানে থাকা সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন। সাংবাদিকরা এতে রাজি না হলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন—কালের কণ্ঠের জুনায়েদ শেখ, যুগান্তরের সাকেরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের জান্নাতুন নাঈম ও সময়ের আলোর মুশফিকুর রহমান ইমনসহ আরও কয়েকজন। তাদের ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন ও যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার, জাফর আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান রুমি ও পরাগ হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা এ হামলার নেতৃত্ব দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মেহেদী হাসান বলেন, 'ছাত্রশিবিরের কর্মীরা সাংবাদিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। সে সময় তারাই সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায়।'
তিনি আরও বলেন, 'এ ঘটনায় আমাদের নেতাকর্মীরা জড়িত নন। আমরা তখন নিচতলায় ছিলাম।'

উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ সাংবাদিক সমিতির নির্বাহী কমিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আনোয়ারুস সালাম। তফসিল অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র জমা ও ৮ মার্চ ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু, সকালে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রইছ উদ্দিন মোবাইল ফোনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচন স্থগিত করার পরামর্শ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আনোয়ারুস সালাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তিনি আমাকে বলেছিলেন নির্বাচন হলে সমস্যা হতে পারে। পরে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন স্থগিত করা হয়।'
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। তদন্ত কমিটির মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
'আপাতত সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হবে,' যোগ করেন তিনি।