বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্বাধীন থাকতে দিতে হবে, তবে যেন জঙ্গি কারখানায় পরিণত না হয়: শিক্ষামন্ত্রী

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাহাথির মোহাম্মদের সময় মালয়েশিয়ার উচ্চ শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়তে যাওয়ার পেছনে অর্থ বিনিয়োগ করা হতো। আবার আরও অর্থ বিনিয়োগ করে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হতো। তিনি ব্রেইন ড্রেইন করেননি, রিভার্স ব্রেইন ড্রেইন করেছিলেন। এভাবেই মালয়েশিয়া উচ্চশিক্ষার একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিস অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত শিক্ষাবিদদের প্রশংসা উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভাগ্যবান, আপনারা ফিরে এসে দেশকে সমৃদ্ধ করতে চাচ্ছেন। আপনাদের আমি অভিনন্দন জানাই।’

মিলন বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণাটিকে লালন করেছিলেন এবং ১৯৯২ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন প্রণয়ন করেছিলেন। তারই ফসল আজকে আমরা পেতে যাচ্ছি।’

‘২০১০ ও ২০২৫ সালে এটিকে পরিবর্তন ও সংশোধন করে সরকারি প্রশাসনের অধীনে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। এভাবে যদি আমরা কঠোর মনিটরিং করে রেড ফ্ল্যাগ লাগাতে থাকি, তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগামী দিনে কাজ করতে পারবে না।’

‘তাদের নিজেদের মতো করে স্বাধীন থাকতে দিন। আমরা তত্ত্বাবধান করব। কিন্তু এমন স্বাধীনতা দেবো না, আবার হলি আর্টিজান যেন না হয়। এটা একদম অবিশ্বাস্য—একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় জঙ্গি কারখানায় পরিণত হয়েছিল। তাই আমাদের এই বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। এটার জন্যই সরকার। এ কারণেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে,’ বলেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিনিয়ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন থাকতে পারে না। সরকারের কাজ সাহায্য করা, সমস্যা শুনে সেগুলোর সমাধান করা।’

ক্রসবর্ডার বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগে সিদ্ধান্ত নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি না এই প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করবে। এখানে কি এমন প্রতিষ্ঠান আছে যারা বিদেশে অর্থ পাচার করছে! নাকি আমাদের দেশে বাইরে থেকে অর্থ আসছে! মন্ত্রী হিসেবে আমার এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে হবে।’

উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত উল্লেখ করে মিলন বলেন, ‘আমি বলেছি অংশীজনদের ডাকতে, আমরা বসি, কথা বলি, দেখি, জানি, শুনি।’  

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের বৃত্তি ও ভাতা সংক্রান্ত দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না প্রশ্ন তুলে মন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো একেকটি ট্রাস্ট, অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ আসছে। এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে! হয়তো সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে, হয়তো হচ্ছে না। আমি জানি না। তবে উদ্বেগ ও প্রশ্ন আছে। আমাদের এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হবে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কোম্পানি আইনের আওতায় নিয়ে আসার প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি অন্যান্য দেশে এমন মডেল রয়েছে। সেই চিন্তা আমরা করতেই পারি। কিন্তু কাদের নিয়ে করব? আপনাদের নিয়েই।’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও উপাচার্যরাও অংশ নেন।