অবিশ্বাস্য জয়ের দিনে বাবার কাছে বাজীতে হেরেছেন রদ্রিগো?
ইতিহাদ স্টেডিয়াম থেকে এক গোলে পিছিয়ে থেকেই ফিরেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। বার্নাব্যুতেও এক পর্যায়ে আরও একটি গোল হজম করে। ফাইনালে উঠতে দারুণ কিছু করে দেখাতে হতো রিয়াল মাদ্রিদকে। তরুণ রদ্রিগোর জাদুতেই তা সম্ভব করে দলটি। তার জোড়া গোলেই ফাইনালের টিকেট কাটে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এ ম্যাচে বাবার সঙ্গে ধরা বাজী জিততে যে হ্যাটট্রিকই করতে হতো এ ব্রাজিলিয়ানকে।
তাহলে কি বাজী হারলেন রদ্রিগো?
তখন ম্যানচেস্টার সিটি উৎসবের প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল হাতের নাগালে। দল যে দুই গোলের ব্যবধানে এগিয়ে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ সময়ে দারুণ এক গোল করে ব্যবধান কমান রদ্রিগো। যোগ করা সময়ের শুরুতেই করেন আরেকটি। অবিশ্বাস্যভাবেই ঘুরে দাঁড়ায় রিয়াল। এরপর অতিরিক্ত সময়ে করিম বেনজেমার গোল। আর তা সবই সম্ভব হয়েছে এ ব্রাজিলিয়ানের জন্য।
স্বাভাবিকভাবেই তার জোড়া গোলকে যে কোনো হ্যাটট্রিকের চেয়ে বেশি মর্যাদা দিচ্ছেন রিয়াল সমর্থকরা। তাদের কাছে এই রদ্রিগো এখন হিরো। তবে অতিরিক্ত সময়ে বেনজেমার নেওয়া স্পট কিকটা তাকে নিতে দিলে হয়তো হ্যাটট্রিক হতেও পারতো। তবে না হলেও আক্ষেপ নেই এ তরুণের। বাকীটা ফাইনালে পূরণ করতে চান এ ব্রাজিলিয়ান
লিভারপুলের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচে বাকি একটি গোল করার প্রত্যয় ঝরে এ তরুণের কণ্ঠে, 'বাবার সঙ্গে বাজী ধরেছিলাম আমি তিনটি গোল করব। আমি মাত্র দুটি গোল করতে পেরেছি। আমি একটি গোল মিস করেছি। আমি সেটা ফাইনাল ম্যাচে করব।'
অবিশ্বাস্য সে ম্যাচ জয়ের পর যেন কোনো ভাষাই খুঁজে পাচ্ছিলেন না এ ব্রাজিলিয়ান, 'এই জার্সি পরে খেললে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করি। সত্যি কথা হলো, যা ঘটেছে তা বর্ণনা করার মতো কোনো ভাষা আমার কাছে নেই। আমরা প্রায় মৃত ছিলাম। ঈশ্বর আমাকে সাহায্য করেছেন।'
তবে দারুণ খুশি এ তরুণ, 'পেশাগতভাবে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলোর মধ্যে একটি। ম্যাচে দুটি গোল করতে পেরেছি। আমি খুব খুশি। বার্নাব্যুতে এটি ছিল আরেকটি জাদুকরী রাত, যেমনটি সবসময় হয়। দর্শকদের সমর্থন অবর্ণনীয় উপায়ে সবসময় আমাদের সাহায্য করে।