ইউনাইটেডকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যাতলেতিকো
বল দখল, গোলমুখে শট নেওয়া ও শট লক্ষ্যে রাখা- সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেল না তারা। রেনান লোদির লক্ষ্যভেদে প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণ জমাট রেখে লিড ধরে রাখল অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদ। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে রেড ডেভিলদের বিদায় করে দিয়েগো সিমিওনের শিষ্যরা উঠল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে।
মঙ্গলবার রাতে আসরের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে ঘরের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে উপভোগ্য লড়াইয়ে ১-০ গোলে হেরেছে ইউনাইটেড। অ্যাতলেতিকোর মাঠে আগের লেগ ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে জিতে শেষ আটের টিকিট পেয়েছে তারা।
ম্যাচের ১৩তম মিনিটে ভাগ্যের ফেরে এগিয়ে যাওয়া হয়নি ইউনাইটেডের। ডান প্রান্ত থেকে ব্রুনো ফার্নান্দেসের দারুণ ক্রসে ভালোভাবে পা ছুঁইয়েছিলেন অ্যান্থনি এলাঙ্গা। কিন্তু বল প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাকের মাথায় লেগে ফিরে আসে।
তিন মিনিট পর দাভিদ দে হেয়ার অবিশ্বাস্য এক সেভে জাল অক্ষত থাকে ইউনাইটেডের। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে রদ্রিগো দে পলের নেওয়া শট হাওয়ায় ভেসে কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি।
২৬তম মিনিটে স্কট ম্যাকটমিনেই ও ফ্রেদ নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করে পৌঁছে যান প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কাছে। এরপর ফ্রেদ আড়াআড়ি বল বাড়ান দিয়োগো দালতের উদ্দেশ্যে। তার শট দৃঢ়তার সঙ্গে লুফে নেন ওবলাক।
সাত মিনিট পর জোয়াও ফেলিক্সের গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। মার্কোস ইয়রেন্তের কাট-ব্যাকে বল জালে পাঠিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে কোকের পাস ধরার সময় অফসাইডে ছিলেন ইয়রেন্তে।
৪১তম মিনিটে আর হতাশ হতে হয়নি অ্যাতলেতিকোকে। গোছানো একটি আক্রমণের সফল পরিসমাপ্তি টানেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার লোদি। ডান প্রান্তে ফেলিক্সের দারুণ ফ্লিকে বল পেয়ে যান আঁতোয়ান গ্রিজমান। তার ক্রসে কাছের পোস্টে নিখুঁত হেডে দে হেয়াকে ফাঁকি দেন লোদি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার প্রথম গোল।
গোল হজম করে তীব্র প্রতিবাদ জানায় ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা। তাদের দাবি, আক্রমণের শুরুতে এলাঙ্গাকে ও মাঝে ফ্রেদকে ফাউল করা হয়েছিল। কিন্তু রেফারি কানে তোলেননি দলটির অভিযোগ।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে স্বাগতিকরা ফিরতে পারত সমতায়। কিন্তু ওবলাক দাঁড়ান বাধার দেয়াল হয়ে। ফার্নান্দেসের নিচু শট ঠেকিয়ে বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন তিনি।
বিরতির পর খেলা শুরুর প্রথম মিনিটেই আক্রমণে ওঠেন এলাঙ্গা। তার শট অবশ্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ছয় মিনিট পর দে হেয়া বল বিপদমুক্ত করতে গিয়ে ডেকে আনতে পারতেন বিপদ। তবে দে পলের আরেকটি দূরপাল্লার শট রুখে দেন ইউনাইটেড গোলরক্ষক।
৫৯তম মিনিটে দালতের ক্রসে জ্যাডন স্যাঞ্চোর ভলি ক্রসবারের সামান্য ওপর দিয়ে চলে যায়। চার মিনিট মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ একটি সুযোগ হাতছাড়া হয় অ্যাতলেতিকোর। দে পলের কর্নারে ফাঁকায় থাকা হোসে হিমেনেজের হেড লক্ষ্যে থাকেনি।
৭৭তম মিনিটে ওবলাকের নৈপুণ্যে গোল হজম থেকে বেঁচে যায় সফরকারীরা। ডান প্রান্ত থেকে আলেক্স তেলেসের ক্রসে ভারানের হেড ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন তিনি। আলগা বলে অ্যাক্রোবেটিক কায়দায় শট নিয়েছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সেটাও লুফে নেন ওবলাক। যদি বল চলে যাচ্ছিল পোস্টের বাইরে।
ছয় মিনিট পর দালত অনেকটা সময় নিয়ে ২০ গজ দূর থেকে শট নেন। তবে তা পোস্টের অনেক দূর দিয়ে মাঠের বাইরে চলে যায়। ম্যাচের বাকি সময়ে অ্যাতলেতিকোকে বেকায়দায় ফেলার মতো আর কোনো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেনি রালফ রাংনিকের শিষ্যরা।