এমবাপেময় ম্যাচে গোল পেলেন মেসি-নেইমারও
ম্যাচটাকে কিলিয়ান এমবাপেময় বলা হলে কোনো অত্যুক্তি করা হবে না! ফ্রান্সের এই বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড নিজে জালের দেখা পেলেন দুবার। পাশাপাশি তিনি নেইমারকে দিয়ে করালেন দুই গোল, অবদান রাখলেন লিওনেল মেসির গোলেও। আক্রমণভাগের তারকা ত্রয়ী জ্বলে ওঠায় স্বস্তির জয়ে ফরাসি লিগ ওয়ানের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান মজবুত করল পিএসজি।
রোববার রাতে নিজেদের মাঠ পার্ক দে প্রিন্সেসে লরিয়েঁকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। প্রথমার্ধে নেইমার ও এমবাপের লক্ষ্যভেদে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। বিরতির পর সফরকারীদের পক্ষে তেরেম মফি ব্যবধান কমালে আরও তেতে ওঠে পিএসজি। একে একে নিশানা ভেদ করেন এমবাপে, মেসি ও নেইমার।
পয়েন্ট তালিকার একে থাকলেও সময়টা ভালো কাটছে না পিএসজির। লিগ ওয়ানে আগের পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই হেরেছিল তারা। সবশেষ ম্যাচে মোনাকোর কাছে তারা রীতিমতো উড়ে গিয়েছিল ৩-০ গোলে। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকেও ছিটকে গেছে তারা। সবমিলিয়ে দলটির ভক্ত-সমর্থকরা হয়ে পড়েছেন হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এমনকি কয়েক দিন আগে নেইমার ও মেসিকেও দুয়ো দিয়েছেন তারা। তাই লরিয়েঁর বিপক্ষে এই দুরন্ত পারফরম্যান্স পিএসজির সাম্প্রতিক ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলতে ও ফের দর্শকদের মন জয় করতে কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে।
বল দখল ও আক্রমণে প্রাধান্য দেখায় প্যারিসিয়ানরা। গোলমুখে তাদের নেওয়া ১৫ শটের সাতটি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে, সফরকারীরা ১১ শট নিয়ে চারটি রাখতে পারে লক্ষ্যে।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপ বজায় রেখে দ্বাদশ মিনিটে লিড নেয় পিএসজি। এমবাপের পাসে জোরালো নিচু শটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমার। ২৮তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। নেইমারের কাছ থেকে বল পেয়ে ইদ্রিসা গে খুঁজে নেন এমবাপেকে। ডি-বক্সে ঢুকে কোণাকুণি শটে জাল কাঁপান তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের ৫৬তম পিএসজির ভুলের ফায়দা তুলে এক গোল শোধ করে লরিয়েঁ। মার্কুইনোসকে ব্যাক-পাস দিতে গিয়ে গড়বড় করে বসেন আশরাফ হাকিমি। আলগা বল ধরে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুমাকে ফাঁকি দেন মফি।
প্রতিপক্ষকে লড়াইয়ে ফেরার সুযোগ না দিয়ে ৬৭তম মিনিটে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে। হাকিমির পাসে তিনি যে শট নেন, তা চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না লরিয়েঁর গোলরক্ষকের। ছয় মিনিট পর আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড মেসি পিএসজির জয় নিশ্চিত করে ফেলেন। পেনাল্টি স্পটের কাছে এমবাপের কাছ থেকে বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বুলেট গতির শটে নিশানা ভেদ করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে এমবাপের পাসে নেইমার ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করলে বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পচেত্তিনোর দল।
৩০ ম্যাচে ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের শিরোপা পুনরুদ্ধারের অনেকটা কাছে পৌঁছে গেছে পিএসজি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অলিম্পিক মার্সেই পিছিয়ে আছে ১২ পয়েন্টে। ৩০ ম্যাচে তাদের নামের পাশে রয়েছে ৫৬ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ১৬ নম্বরে অবস্থান করা লরিয়েঁ আছে অবনমন ঠেকানোর লড়াইয়ে।