জিতেও বিদায় ইন্টারের, শেষ আটে লিভারপুল

স্পোর্টস ডেস্ক

দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে জাল খুঁজে নিলেন লাউতারো মার্তিনেজ। তাতে লড়াই জমিয়ে তোলার আভাস দিল ইন্টার মিলান। কিন্তু পরের মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন অ্যালেক্সিস সানচেজ। একজন কম নিয়ে বাকি অংশে আর কোনো রোমাঞ্চ তৈরি করা হলো না ইতালিয়ান ক্লাবটির। লিভারপুলকে হারিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিল তারা।

মঙ্গলবার রাতে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে লিভারপুলের মাঠ অ্যানফিল্ডে ১-০ গোলে জিতেছে ইন্টার। প্রথম লেগে ইন্টারের মাঠে ২-০ গোলে জিতেছিল ইংলিশ পরাশক্তি লিভারপুল। ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা।

বিরতির আগে দুই দলের খেলায় ছিল না আক্রমণাত্মক মনোভাব। তবে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টায় চিত্র। আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার মার্তিনেজের গোলে ম্যাচে ক্ষণিকের জন্য উত্তেজনা ছড়ালেও সানচেজের লাল কার্ড জল ঢেলে দেয় তাতে। তবে লিভারপুল নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারে! তাদের মোট তিনটি শট পোস্ট ও ক্রসবারে বাধা পায়। তা না হলে লড়াইয়ের ফল হতে পারত উল্টো।

৬২ শতাংশ সময়ে বল পায়ে রাখা স্বাগতিকরা গোলমুখে ১২ শট নিয়ে দুটি রাখে লক্ষ্যে। অন্যদিকে, ইন্টার গোলমুখে শট নিতে পারে কেবল ছয়টি। যার মধ্যে লক্ষ্যে ছিল তিনটি।

অনেকটা নিষ্প্রাণ সময়ের পর ৩০তম মিনিটে গোলবঞ্চিত হয় লিভারপুল। ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডের ফ্রি-কিকে জোয়েল মাতিপের হেড ক্রসবারে বাধা পায়। দুই মিনিট পর আরেকটি সুযোগ হাতছাড়া হয় তাদের। ভার্জিল ভ্যান ডাইকের হেড ইন্টারের গোলরক্ষক সামির হান্দানোভিচকে ফাঁকি দিয়ে জালের দিকে যাচ্ছিল। কোনোমতে বল জালে পৌঁছানো থেকে ঠেকান মিলান স্ক্রিনিয়ার।

৪১তম মিনিটে সুযোগ আসে সফরকারীদের সামনে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে হাকান চালহানোগ্লুর নিচু ফ্রি-কিক রুখে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন। ফলে গোলশূন্য স্কোরলাইনে বিরতিতে যায় দুই দল।

বিরতির পর ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ফের দুর্ভাগ্য সঙ্গী হয় অলরেডদের। মিশরীয় ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। নয় মিনিট পর মার্তিনেজ লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে হতাশ করেন।

পরের মিনিটেই ইন্টারকে এগিয়ে প্রথমার্ধে নিজের ছায়া হয়ে থাকা মার্তিনেজ। সানচেজের কাছ থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়ে অ্যালিসনকে পরাস্ত করেন তিনি। কিন্তু ইন্টারের লড়াইয়ে ফেরার উল্লাসের প্রদীপ নিভে যায় অল্প সময়েই। থিয়াগো আলকান্তারাকে ফাউল করে ম্যাচে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন চিলিয়ান ফরোয়ার্ড সানচেজ।

দশ জনের প্রতিপক্ষকে এরপর আরও চেপে ধরে লিভারপুল। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোল আর পাওয়া হয়নি তাদের। ৭৭তম মিনিটে সাদিও মানের পাসে সালাহর আরেকটি শট পোস্টে লাগে। যোগ করা সময়ে লুইস দিয়াজের প্রচেষ্টা জালের দিকেই যাচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে তা প্রতিহত করেন ইন্টার মিডফিল্ডার আর্তুরো ভিদাল। তবে হারের হতাশাকে দূরে ঠেলে শেষ আট নিশ্চিত করে চওড়া হাসিটা লিভারপুলই হাসে।