ন্যূনতম ব্যবধানে জিতে ফের প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে লিভারপুল
প্রথমার্ধে দর্শনীয় কায়দায় লক্ষ্যভেদ করলেন মিডফিল্ডার নাবি কেইতা। এরপর আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিয়েও ব্যবধান বাড়াতে পারল না লিভারপুল। তবে লিড ধরে রাখায় পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়ল তারা। প্রত্যাশিত জয়ে আবারও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠল ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যরা।
শনিবার লিগের চলমান ২০২১-২২ মৌসুমের ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মাঠে ১-০ গোলে জিতেছে লিভারপুল। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি আসে কেইতার পা থেকে। দুই দলের আগের দেখায় গত বছরের ডিসেম্বরে নিজেদের মাঠ অ্যানফিল্ডে ৩-১ গোলে জিতেছিল অলরেডরা।
লিভারপুলের এই জয়ে প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ে যে ইঁদুর দৌড় চলছে, তা সামনে আরও রোমাঞ্চের আভাস দিচ্ছে। ৩৪ ম্যাচে ২৫ জয় ও ৭ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৮২। এক ম্যাচ কম খেলে দুইয়ে থাকা গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৮০। নিউক্যাসল ৩৫ ম্যাচে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে নবম স্থানে।
অনুমিতভাবেই বল দখল ও আক্রমণে প্রাধান্য দেখায় লিভারপুল। ম্যাচের ৬৬ শতাংশ সময়ে বল পায়ে রেখে গোলমুখে ২৪টি শট নেয় তারা। এর মধ্যে লক্ষ্যে ছিল দশটি। অন্যদিকে, নিউক্যাসলের নেওয়া মাত্র চারটি শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে। তারা সফরকারীদের গোলরক্ষক অ্যালিসনকে তেমন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে ব্যর্থ হয়।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে দিয়োগো জোতার কাছ থেকে বল পেয়ে কেইতার নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। কিছুক্ষণ পর এই দুজনের জুটিতে আসে সাফল্য। জোতার সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে ডি-বক্সে ঢুকে নিউক্যাসলের গোলরক্ষক মার্তিন দুব্রাভকাকে কাটিয়ে নিশানা ভেদ করেন কেইতা। গোললাইনে স্বাগতিকদের দুই ডিফেন্ডার দাঁড়িয়ে থাকলেও শট আটকানো সম্ভব হয়নি তাদের পক্ষে।
৩৪তম মিনিটে লুইস দিয়াজের পাসে সাদিও মানের শট ফিরিয়ে দেন দুব্রাভকা। আট মিনিট পর তার নৈপুণ্যে ব্যবধান দ্বিগুণ করতে পারেনি লিভারপুল। জর্ডান হেন্ডারসনের ক্রসে জোতার হেড কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন তিনি। বিরতির পর ম্যাচের ৬৩তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন মানে। জো গোমেজের কাট-ব্যাকে বল পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন তিনি।
বদলি নামা মোহামেদ সালাহ নয় মিনিট পর বাঁকানো শট নিয়ে ফাঁকি দিতে পারেননি দুব্রাভকাকে। সাত মিনিট পর দূরপাল্লার কোণাকুণি শট রুখে জোতাকে ফের হতাশ করেন তিনি। ৮৪তম মিনিটে দিয়াজও কাছের পোস্ট দিয়ে বল জড়াতে ব্যর্থ হন। সুযোগের পর সুযোগ নষ্ট করলেও জয় দিয়ে ম্যাচ শেষ করে ম্যান সিটির ওপর চাপ বাড়িয়েছে লিভারপুল।