বার্সাকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় করে দিল বায়ার্ন
ব্যালন ডি'অর লিওনেল মেসির হাতে যাওয়ার পর থেকেই খেপেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের খেলোয়াড়রা। সব ঝাল বার্সেলোনার ওপরই মেটাবেন বলে অঙ্গীকার করেছিল দলটি। শেষ পর্যন্ত তাই করেছে দলটি। বার্সেলোনাকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় করে দিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। ১৭ বছর পর ফের ইউরোপা লিগে খেলবে বার্সেলোনা।
বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের 'ই' গ্রুপের ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। টমাস মুলার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর লরে সানে ও জামাল মুসিয়ালার গোলে জয় নিশ্চিত হয় দলটির। প্রথম লেগের ম্যাচেও একই ব্যবধানে হেরেছিল বার্সা।
একই সময়ে অপর ম্যাচে ডায়নামো কিয়েভকে ২-০ গোলে হারিয়ে বায়ার্নের সঙ্গী হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে বেনফিকা। ছয় ম্যাচের সব জিতে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বায়ার্ন। রানার্সআপ বেনফিকার সংগ্রহ ৮ পয়েন্ট। ৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় হয় বার্সেলোনা।
সবশেষ ২০০০-০১ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল বার্সেলোনা। তবে ২০০৩-০৪ আসরে সবশেষ ইউরোপা লিগে খেলেছিল দলটি। অন্যদিকে এ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতল বায়ার্ন। ২০১৯-২০ আসরেও সব ম্যাচ জিতেছিল তারা। সেবার চ্যাম্পিয়নও হয় দলটি।
এদিন অবশ্য বল দখলের লড়াইয়ে সমান সমানই ছিল দুই দল। ৫২ শতাংশ বল পায়ে ছিল বায়ার্নের। ১০টি শট নিতে পারে তারা। যার ৬টিই ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে ৭টি শটের ২টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা।
করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে এদিন দর্শকশূন্য মাঠে ম্যাচ আয়োজন করতে হয় বায়ার্নকে। নিজেদের দর্শকের সুবিধা আদায় না করতে পারলেও সহজ জয়ই মিলে তাদের।যদিও গুছিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগে তাদের। ম্যাচের শুরুতে বল দখলে রেখে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে সফরকারীরা। তবে ফরোয়ার্ডদের ব্যর্থতায় কোনো লাভ হয়নি।
ম্যাচের ২৭তম মিনিটে বলার মতো প্রথম সুযোগ পায় বায়ার্ন। মুলারের ক্রস ঝাঁপিয়ে ঠেকাতে গিয়ে মিস করেন গোলরক্ষক মার্ক-আন্ড্রে টের স্টেগেন। অনেকটা ফাঁকায় বল পান লেভানদোভস্কি। প্রয়োজন ছিল একটি টোকার। কিন্তু বলে পা লাগাতে পারেননি এ পোলিশ স্ট্রাইকার।
সে বল পেছনে থেকে ঠেকাতে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়েন জর্দি আলবা। ফলে বড় ধাক্কা খায় বার্সেলোনা। এর তিন মিনিট পরই গোল হজম করে দলটি। বাঁ প্রান্ত থেকে নেওয়া লেভানদোভস্কির ক্রিস থেকে মুলারের নেওয়া হেড রোনালদো আরাহো ঠেকিয়েছিলেন বটে। তবে গোললাইন প্রযুক্তিতে দেখা যায়, বল গোললাইন পেরিয়ে গিয়েছিল।
গোল খেয়ে যেন নিজেদের আরও হারিয়ে ফেলে বার্সেলোনা। ৪৩তম মিনিটে আরও একটি গোল হজম করে দলটি। সানের দূরপাল্লার শট নাগালের মধ্যে থাকলেও বলের গতি বুঝতে না পারে ঠেকাতে পারেননি বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও একটি গোল দিতে পারতো স্বাগতিকরা। কিংসলে কোমানের পাস থেকে গোলমুখে টোকা দিতে ব্যর্থ হন সানে। তবে ৬২তম মিনিটে ঠিকই ব্যবধান বাড়ায় বায়ার্ন। বাঁ প্রান্ত থেকে আলফান্সো ডেভিসের বাড়ানো বল থেকে লক্ষ্যভেদ করেন মুসিয়ালা।
শেষ দিকে ব্যবধান বাড়ানোর আরও সুযোগ ছিল বায়ার্নের। তবে গোল আদায় করে নিতে না পারলেও বড় জয়ই মিলে দলটির।